Skip to main content

শুভ দীপাবলি

সাজানো কথা আর মিথ্যা কথা এক না। প্রথমটায় খানিক শিল্পীসত্তার দরকার হয়, দ্বিতীয়টায় সে দরকার নেই।
   যেমন সত্যভাষণে আর কটুভাষণে। প্রথমটায় বিবেচনাবোধ জরুরী। দ্বিতীয়টায় নয়।

ভেস্টিবিউল

করোমণ্ডল এক্সপ্রেস
ট্রেনটা প্রচণ্ড বেগে ভারতের দক্ষিণাভিমুখে ছুটছে।
সত্তর পেরোনো মানুষটা
    হাতে একটা ফ্লাক্স নিয়ে প্যান্ট্রিকারের দিকে এগোচ্ছেন
    S6 থেকে ছ'টা বগি পেরোলে প্যান্ট্রিকার,
মানুষটা অশক্ত শরীরে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে

বিকল্প

কোথায় খুঁজছো খোলা আকাশ?
             কিসের চাইছো বিকল্প?

মুঠো খুলে যদি টানটান হয় আঙুলগুলো
     যদি ভেসে যায়-
           মাথা ভরা সব প্রজল্প

দারুচিনি

আর ঝরণা না
  আর নৈসর্গিক মোহময় রহস্যময়তা না

আমায় গল্প বলো
    যে মেয়েটা উদাস চোখে কাজল সামলে
       রঙ মাখানো ঠোঁটকে উপেক্ষা করে
             পিঠের বাচ্চা সামলে চায়ের জল চড়ালো

তার গল্প বলো

ছোট্ট যীশু - অতীশ

উত্তর পূর্ব ভারতবর্ষ
প্রাচীন ঝর্ণা
আদিম প্রস্রবণ
তীরে ধ্যানমগ্ন তিনজন সন্ন্যাসী

খানিক দূরে দাঁড়ালাম একা
   অতীশ ধরছে প্রজাপতি
জলে ডানা আটকানো মৃতপ্রায় প্রজাপতিদের
     শুকনো ডাঙায় তুলে প্রাণ বাঁচাচ্ছে অতীশ
           ছোট্ট যীশু

এইটুকুই থাক

এই তো, মাত্র খানিক আগে
ধানক্ষেতের মধ্যখান দিয়ে যে রাস্তাটা গেছে

সত্য

দার্শনিক, সন্ন্যাসী খুঁজে চলেছেন সত্যের সংজ্ঞা

দার্শনিক লিখলেন বই
সন্ন্যাসী গড়লেন মঠ

সত্য ঘুড়ি উড়িয়ে চলল মহাকাশে

লাটাই নিতে চাইলেন সন্ন্যাসী
           নিতে চাইলেন দার্শনিক

মহাকাব্য

আকাশ ছুঁতে চাওয়া
প্রবল বিক্রমে তাকে ছুঁয়ে ফেলা

এতো মহাকাব্যর মুখবন্ধ

তারপর সজোরে পতন
  সে কি মহাকাব্য নয়?

সেই তো মহাকাব্যের উপসংহার

নইলে তা মহাকাব্য কিসের?

জোনাকিরা

একটা কবিতা লিখতে লিখতে
    সকাল গড়িয়ে বিকাল হল

বিকাল গড়িয়ে রাতও হত হয়ত
   তুমি না এসে পড়লে গোধূলিতে
       সিঁদুর মাখা পশ্চিম আকাশ নিয়ে ঘরে

যদি না আসতে
   মধ্যরাতে না ঘুমানো জোনাকিরা
           চুরি করে নিয়ে যেত সে কবিতা

বাপু

নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন

মাঝবয়েসী মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন

বৃদ্ধা মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন

আমিও আসছিলাম বাপু জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিতে,
   দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম।

তোমারও কোথায় একটা দাঁড়ানোর কথা ছিল না?
       মনে পড়ছে না।

Subscribe to কবিতা