Skip to main content

মান আর হুঁশ

 “ — মল্লিক, আমার খেতে বেলা হয় বলে, রাঁধবার বামুন ঠিক করে দিছল। একমাস একটাকা দিছল। তখন লজ্জা হল। ডেকে পাঠালেই ছুটতে হত। — আপনি যাই, সে এক।…. এই অবস্থা যাই হলো, রকম-সকম দেখে অমনি মাকে বললাম — মা, ওইখানেই মোড় ফিরিয়ে দাও! — সুধামুখীর রান্না — আর না, আর না — খেয়ে পায় কান্না!”
          এ কথাটা এক স্বাধীনচেতা মানুষের। যে ভালোবাসার দান নেয়। যে ন্যায্য উপার্জন নেয়, কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য কারোর কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিতে রাজী নয়। 
....

ফিরে আসা

গভীর রাতে দরজায় টোকা।

            বাবা, আমি এসেছি, তুমি কি ক্ষমা করবে আমায়?
          বাবা দরজা খুলে দাঁড়ালো।
          ছেলে মাথা নীচু করে পা ছুঁলো বাবার। বাবা বলল, শুধু আমি না, আমার চোদ্দো পুরুষ অপেক্ষা করছে তুই ফিরে আসবি বলে। ঘরে এসে দেখ।
...

ইচ্ছা

ইচ্ছে ! –ইচ্ছে !
সেই তো ভাঙছে, সেই তো গড়ছে,
সেই তো দিচ্ছে নিচ্ছে।।
সেই তো আঘাত করছে তলায়, সেই তো বাঁধন ছিঁড়ে পালায়–
বাঁধন পরতে সেই তো আবার ফিরছে।।

~ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
....

চোদ্দোশাক

ঝুলবারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজের কথাগুলো সব পর পর বলে যাওয়া স্বভাব। মাথাটা উঁচু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে অনর্গল এক দেড় ঘন্টা কথা বলে, নাক চোখ মুছে উনি ঘরে এসে বসেন। এ রোজকার স্বভাব। যত না আত্মীয়স্বজন মাটির উপর দাঁড়িয়ে, তার চাইতে অনেক বেশি আকাশে। একজন দূর সম্পর্কের ভাগ্নী ছাড়া কেউ নেই আজ সত্যি বলতে।
          আজ সকালে ঝুলবারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশে থাকা ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছেন, আকাশের দিকে তাকিয়ে, হঠাৎ চোখ গেল সামনের ফ্ল্যাটের ঝুলবারান্দায়, এক কিশোর টুনি লাগাচ্ছে। কি নাম? জানেন না। কারোরই নাম জানেন না। ইলেকট্রিসিটি বোর্ড থেকে রিট্যায়ার করার পর থেকে কাউকে চিনতে ইচ্ছা করে না। কারোর নাম জানতে ইচ্ছা করে না।
...

জাগ্রত

“আমার জীবন থেকে সব ভালোবাসা সরিয়ে নাও।”

    জৈন সাধক ভাস্কর এই কথাটা তিনবার উচ্চারণ করল। অনেক উঁচু পাহাড়ের মাথায় এই মন্দির। চারদিক জঙ্গল। দিনের উজ্জ্বল আলোয় স্নিগ্ধ শান্ত দশদিক।

আস্কারা

চক্কোতি মশায় ভীষণ অভিমানী। খিদে পেলে মুখে বলতে পারেন না। নিজে রিকশা ডাকলে, আরেকজন ডেকে দিলে ছেড়ে দেন। এক হাতা বেশি ভাত লাগলে চাইতে পারেন না। কিন্তু মনে মনে ভাবেন, একবারও বলল না আমার আরেকটু ভাত লাগবে কিনা! 

সেন্টিমেন্ট

দেখুন, আমরা আপনাকে প্যানিক করার কারণ দেব। কিন্তু আপনি প্যানিক করতে পারবেন না। আমরা আপনাকে ঘৃণা, রাগ, বিদ্বেষ - এগুলোর খবর জানাব। আপনি স্থিতপ্রজ্ঞের মত থাকবেন। যদি না পারেন, আপনি কি করে কি করে স্থিতপ্রজ্ঞ থাকবেন সেও নানা টিপসের মাধ্যমে জানাব। আপনি শুধু আমাদের কিনুন। আমাদের দেখুন। 

মামু

আকাশে যে ঠাকুমা থাকে, সে রোজ রাতে লণ্ঠন হাতে বেরোয়। কেন বেরোবে না? সব তারা আছে কিনা গুনে দেখতে হবে না! 

কেন বারবার সমুদ্র?

সজ্ঞানে তো জানি পাহাড় আর জঙ্গল ভালোবাসি। বিশেষ করে জঙ্গল। কিন্তু স্বপ্নে যেখানে সেখানে সমুদ্র কেন দেখি? পাশের বাড়ির পিছনেই যেন বালুতট, তারপর সমুদ্র। উঠানের পেয়েরা গাছটার গোড়া ছুঁচ্ছে এসে সমুদ্রের ঢেউ। ঘুমের মধ্যে নোনা বাতাস। নিরবচ্ছিন্ন গর্জন। কেন বারবার সমুদ্র?

ভ্রষ্ট তোতা কাহিনী

রাজা পাখিটিকে আনাইলেন। সঙ্গে কোতোয়াল আসিল, পাইক আসিল, ঘোড়সওয়ার আসিল। রাজা পাখিটিকে টিপিলেন, সে বলিল, জয় রাজামহারাজের জয়। তাহার পেটের মধ্যে পুঁথির কাগজগুলি পরমোল্লাসে নাচিয়া নাচিয়া বলিল, আমি সব জানি, সব জানি মহারাজ। আপনার কৃপা রাজা। আপনিই সব।

    রাজা কহিলেন, আর গান গাহিবে?

Subscribe to