Skip to main content

জাল

পাখিটাকে দেখে তারা রোজ আলোচনা করত। অনেকে তো শুনেছি কাঁদতও। এমন কাঁদত যে চোখের কাজল গালে লেগে যেত। টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিতে হত। তারপর চলত আলোচনা, তর্ক, ব্যাখ্যা, ব্যাখ্যার ব্যাখ্যা। ওই দেখো, আসল কথাটাই তো বলা হল না, কি নিয়ে আলোচনা।
...

তালা

দরজাটায় তালা দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন বিশ্বদীপ মল্লিক। কোমরটা টনটন করে উঠল। বাইরের লোহার গেটটা খুলে বেরোতে গিয়ে আবার ফিরে এলেন। দরজার সামনে ঝুঁকে তালাটা বাঁ হাতে চেপে ধরলেন। একটা হ্যাঁচকা টান দিলেন। ছেড়ে দিলেন। তালাটা একটা যান্ত্রিক আওয়াজ করে দুলে উঠল। তালাটার বয়েস তিরিশ বছর। মোটা কালো তালা। 
...

ঝড়

সুরো'র আরো দেরি আছে। দুপুর আড়াইটে হবে। গদা স্কুল থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। মা'কে পুকুরধারে দেখেই এদিকে চলে এসেছে। মায়ের দেরি আছে দেখে গদা পাশের আমগাছটায় চড়তে শুরু করল। আমগাছটা ভরতি বোল। চকচক করছে ওটা কি? আরে, সাপ তো? সামনের ডালটা বেঁকে যে ডালটা উপরের দিকে ডানদিকে গেছে তার উপরে শুয়ে আছে।
...

প্রতিচ্ছবি

ছেলেটা চুপ করে রাস্তার একটা ধারে দাঁড়িয়েছিল। সে দূরে দেখছে একটা বুড়ি গাছের তলায় বসে ঝিমোচ্ছে। ছেলেটা ডানদিক বাঁদিক একবার দেখল, তারপর ছুটে গিয়ে বুড়িটাকে একটা লাথি মারলো। বুড়িটা হুড়মুড় করে রাস্তার ধারে গড়িয়ে পড়ল।
...

আবীর

নীল জামাটার দিকে দু'বার তাকিয়ে দেখল। ভাল্লাগে না। এই জামাটা পরে কেউ রঙ খেলতে যায়? কেন তার আর নতুন কোনো জামা নেই? লোকে বলবে না, বাবাটা অত ভালো চাকরী করে অথচ দেখো ছেলেটা সেই গত বছরের জামা পরেই খেলতে এসেছে।
...

সেলুন

কোলে চুলগুলো কেটে কেটে পড়ছে। সাদা চাদরে চুলের থোকা। তারা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলছে - কোলে নাও। 
        চশমা পরা নেই, তাই চুলগুলোর মুখ দেখতে পাচ্ছেন না। সেলুনের ছেলেটা প্রতিবারই চশমাটা খুলে নেয়। চশমা খুললে আর চোখে দেখতে পান না। আওয়াজ শুনতে পান।
...

হরিনাভী

হরিনাভীর ভীষণ ক্ষোভ। না বউটা পোষ মানল, না কুকুরটা। তেমন দজ্জাল শাশুড়ির পাল্লায় তো পড়েনি! গ্রাম থেকে আনা হল, শালা! কপালে না থাকলে যা হয়। আর স্বামীসুখই বা কি পেলেন? তিনি তো সারাটা জীবন দেশোদ্ধারের কাজেই জীবন দিলেন। পার্টি আর পার্টি। জ্বালিয়ে খেলে গা!
...

হারিয়ে গিয়ে

যেমন তেমন নয়, আস্ত একটা সূয্যি গিলে দিনটা দিল চম্পট। অমনি তিরপল ফেলে হুস্ করে হল অন্ধকার। কেউ কোত্থাও নেই। ইয়াব্বড় আম বাগান। ইদিকে গাছ, উদিকে গাছ। বোলের ম ম গন্ধ। কোন দিকে যাই? ঝাপসা রাস্তা দেখা যাচ্ছে এঁকে বেঁকে। মাটির রাস্তা। হঠাৎ আওয়াজ - কেঁউ... কেঁউ... বাচ্চা কুকুর। পিছু নিয়েছে। ঘুটঘুইট্টা অন্ধকার বাড়ছে। ওডা কে?
...

চম্পা

"মরা একটা মাছেরও দাম আছে, আমাদের কি দাম বল? মরলে সবাই বলবে শ্মশানে নিয়ে যাও"
        এক নিঃশ্বাসে এতটা বলে দম নিল চম্পা। তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। অন্ধকারটা ভালোই লাগে চম্পার। চাদরটা বুকের উপর টেনে নিয়ে বলল, "বাবু একটু জানলাটা খুলে দে তো, টুনটুনিটা ডাকছে।"
...

সুটকেশ

অনেক রাতে ট্রেন। প্রদ্যুত যখন হাওড়া স্টেশানে এলো তখন পৌনে এগারোটা। এখনও এক ঘন্টা বাকি। প্রদ্যুত বিশাখাপত্তনম যাবে। অফিসের কাজ। এসি ২ -তে লোয়ার বার্থ। প্রদ্যুত ডিনার সাথেই এনেছিল। স্টেশানেই খেয়ে নিল। ট্রেন দেয়নি এখনও প্ল্যাটফর্মে। মোবাইলটা অন্ করে ওটাস অ্যাপটা অন্ করতেই বোর্ডে চেন্নাই মেলের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে দিল।
...
Subscribe to অনুগল্প