বিষাদ সায়রে
বিষাদ সায়রে এক বুক জলে দাঁড়িয়ে
মাথাটা ডোবালে ডোবাতেও পারি
তবু নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে
সত্য বস্তু
সত্য বস্তু চিত্তে বাঁধা
তারে খুঁজতে গেল জনম আধা
এমন গোলক ধাঁদায় ঘোরায় যে রে
সে জন কোন জনা?
চিত্ত ক্লান্ত মিথ্যা ভেকে
যারে হন্যে হলেম ডেকে ডেকে
সে যে সব ঘরেতেই আছে বসে
হয়ে একজনা
সত্য বলো, সুপথে চলো
লালন সাঁই এ মন্ত্র দিল
সে ধন পাবে যদি মন সামলে চলো
ভাগাও ছয়জনা
বোঝো?
যখন তুমি সবার ‘হাঁ’-এ
‘হাঁ’ মিলিয়ে নিরাপদ
তখন তুমি সাদা মুখে
আয়নার সামনে যেও না
ভয় পাবে
তার চেয়ে রঙ মেখে এসো
নিজের গলার স্বর শুনে চমকে যাও
জানি
যদি তুমি
যদি তুমি জানতে পারো, তুমি ভগবান
জেনো, তুমি একা হবে
যদি তুমি জানতে পারো, তুমি শয়তান
জেনো, তুমি বোকা হবে
যদি তুমি জানতে পারো, তুমি কিছু নও
জেনো, তুমি বেঁচে যাবে
এই ঢের
পথ ফিরিয়ে দিয়েছিল আমায়
তোমার চোখ পথে টানল ফের
যা না-দেখা ছিল, তারা স্বপ্ন হয়ে এল
পথ না পাই, গতি যে পেয়েছি,
এই ঢের
তুমি না চাইলে
সেদিন তুমি
দিতে চেয়েছিলে দু'হাত ভরে
নিই নি আমি,
ফিরিয়ে দিয়েছি অহংকারে
কালের ঘুর্ণী
ঘোরালো ছোটালো কি মহাঘোরে
ফিরে এসে দেখি
শূন্য অহং পূর্ণ হিসাব শূন্য করে
এমনই
দরজায় তোমায় চিনতে পারিনি
পেরেছি পাপোসে পা মুছে ভিতরে আসার পর
তুমি চলে গেলেও, তোমায় হারিয়েছি বুঝিনি
বুঝেছি, আরেকজন দরজায় আসার পর
আর যাই করো
আর যাই করো
কিছুটা জমি বাঁচিয়ে রাখো
ঘর তুলো না সবটাতে
একটা ছোটো উঠোন রাখো
তাতে গাছ না হয় নাই লাগালে
জানি ভীষণ তোমার ব্যস্ততা
ঘাসই না হয় থাকুক
তারা শিশিরে ভিজুক ভোরবেলা
প্রেম-শরীর
সব শেষে দেখি, ঘরের কোণেতে দ্বীপ জ্বেলে যান কবীর
হিন্দু না ভাই, না মুসলিম, প্রেমে গড়া প্রেম-শরীর
না মন্দিরে, না মসজিদে, না জঙ্গলে, না গুহাকোণে
প্রতি শ্বাসে শ্বাসে, সেই আছে ভাই, প্রতি প্রাণে, প্রতি মনে
চিরশান্তির সুর আসে ভেসে কোন পুরাকাল থেকে
প্রতি আলোকেতে সেই আছে দেখি, সারাটা বিশ্ব ব্যেপে
প্রেমেতে সত্যে করূণায় গড়া ক্ষমার আলোতে স্নিগ্ধ
এত রক্ত কেন?
কদিন আগে ট্রেনে ভারতের পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূবের দিকে ফিরছিলাম। ট্রেনটা বিকালবেলা আসল টাটাতে। সশস্ত্র পুলিশবাহিনী উঠল দলে দলে। পনেরো মিনিট অন্তর অন্তর টহল চলছে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে। কেন? শুনলাম খড়গপুর অবধি বিপদসঙ্কুল পথ।