Skip to main content

পদচিহ্ন

চৌকাঠ পেরোলাম
বারান্দা পেরোলাম
উঠান পেরোলাম

  রাস্তায় আসলাম
শুধু তোমার জন্য

শুনলাম তুমি ফিরে গেছো
অনেকক্ষণ ওই পাকুড় গাছটার তলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে

তুমি শুনতে পাও নি?
আমি চৌকাঠ পেরোচ্ছিলাম
বারান্দা পেরোচ্ছিলাম
উঠান পেরোচ্ছিলাম

বোঝোনি, সে শুধু তোমারই জন্য?

সন্ধ্যামালতী

মেয়েটার সেদিন সন্ধ্যামালতী ফুল দেখতে ইচ্ছা করছিল। ফুলটা না দেখতে পেলে সে যেন মরেই যাবে আজ। সত্যিই মরে যাবে।

মনসুর

সোজা রাস্তাটা বন্ধ ছিল
বুকের ঘরে আগল ছিল
কান্নাগুলো হিসাবী ছিল
দিনরাত খুব উদাস ছিল

বিধির কি যে খেয়াল হল
রাস্তা ঘুরে কি পাড়া গেল
চিন্তা হৃদ্-আঙনে হোঁচট খেল
কুলকুল কি শব্দ পেল

আসছে শোনে কিসের বান
প্রাণের মূলে মরণটান
মনসুরের সে পাগল গান
সুরে তালে মাতাল প্রাণ

মনসুরের আঙিনায়

ঈশ্বর বলো, আল্লাহ্‌ বলো - তাঁর বাগানে ঘুরে এলাম।

জোছনা

এক মুঠো জোছনা চুরি করে
সিঁড়ি দিয়ে পা টিপে টিপে
       তোমার ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালাম

তুমি বললে -
  মোছা মেঝে, একটু দাঁড়াও
           জলটা শুকিয়ে যাক আগে

ডাক

হাত ছেড়ে গেলে
  হাতের কথাও বুঝি ভুলে যায় মানুষ?
ঝরাপাতার গান বোঝে কালবৈশাখি
  গাছের হৃৎপিণ্ডে লাগায় পক্ষীরাজের ছুট
       উদাস নৃত্যের তালে বসন্ত ফেরে
     ঝরা ফুলের পাপড়ি মাড়িয়ে,
  পথের বাঁকে বাঁকে রেখে যায়
        টুকরো কথার কোমল ছায়া

ডাক

আমায় অন্যমনস্ক করল তোমার ডাক। আমায় ভাবালো তোমার ডাক। আমায় আমার সামনে দাঁড় করালো তোমার ডাক।

কিছু স্পর্শের অনুভব

কিছু স্পর্শের অনুভব
শরীরের সাথে সময়ও মনে রাখে
যখন উদাস বাতাস পাতার গাল ছোঁয়
শিকড়ের কোলে কুঁড়িও মাথা রাখে


(ছবিঃ সমীরণ নন্দী)

কত?

কত স্মৃতির বিন্দু জমে জমে ধ্রুবতারা হয়?
কত ব্যাথা উদাসীনতায় ঘুমিয়ে একতারা হয়?
কত রাত জাগা অভিমানে শিউলিবৃন্ত লালাভ হয়?
কত একা থাকলে রক্তনদীর গভীরতা মাপা যায়?
কত চেষ্টার পর ব্যর্থতাকে প্রদীপের শিখা করা যায়?

যদি

কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে
 সব ধুয়ে যদি যেত
সব রক্ত ধুইয়ে নিয়ে
 মিথ্যা করে দিত!
হাত ছুঁয়েছিল যে মহানগর
বুক ছুঁয়েছিল যারা
    ফিরিয়ে দিত বৃষ্টি একাই
       যেন কেউ না স্বজনহারা

জানি এ সব ছাই কল্পনা
  গল্পের মত সব
কাল থেকে চোখ মাড়িয়ে চলেছে
  আচমকা হওয়া শব

Subscribe to