স্থবিরত্ব
ক্রমশ তুমি প্রস্তরীভূত হচ্ছ
তোমার নাক, চোখ, কান, হৃদয়, মস্তিষ্ক
ক্রমশ পাথর হয়ে উঠছে
তুমি হাওয়ায় নড়ো না
আগুনে পোড়ো না
জলে ভেজো না অন্তঃস্থল অবধি
তুমি অনড়
তুমি অচল
বোধি পাওনি,
পেয়েছ স্থবিরত্ব
তুমি আকাশকে বর্ষা বলো
চুনের দাগ
আমি এলাম
ছড়ানো ছেটানো ভালোবাসার আবদার
ছড়ানো ছেটানো ভালোবাসার আবদার
কচু পাতায় বৃষ্টির জলের মত টলটল
বড় জীবন্ত, বড় স্বচ্ছ
অমর্ত্যবাবুর অবাঙালী জীবনীকার হলে ভালো?
তবু জীবিতের মত ভাবি
কেন কথায় কথায় এত মৃত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ
কেন বারবার কবর খোঁড়া, চিতার ভস্ম হাতড়ানো
আমি তুমি দু'জনেই তো বেঁচে আছি এখনও
এসো না কথা বলি, না হয় দ্বিমত হই
তবু জীবিতের মত ভাবি!
হাঁটছি
দুঃখ আমার সমবয়েসি নয়
আনন্দ আমার সমবয়েসি নয়
ভালোবাসা আমার সমবয়েসি নয়
ঘৃণা আমার সমবয়েসি নয়
এ আকাশ, মাটি, জল, বাতাস, আলো
এরা কেউই আমার সমবয়েসি নয়
এ গ্রহ, তারা, নক্ষত্র, ধূমকেতু
এরাও নয় আমার সমবয়েসি
ইচ্ছা মানে শর্ত নয়
পাশাপাশি দুজন মানুষ হেঁটে গেলে ভাবতাম
বন্ধু, কিম্বা দম্পতি, কিম্বা..
এখন জানি
একে অন্যের শর্তও হতে পারে
চাহিয়া দেখো রসের স্রোতে রঙের খেলাখানি
গতকাল মধ্যরাত থেকে যে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসার স্রোতে ভেসে চলেছি, তার জন্য নিজে কতটা যোগ্য সত্যিই জানি না। নীরেন্দ্রনাথ মহাশয় একবার বলেছিলেন, জীবনে এমন অনেক অপমান দুঃখ পেয়েছি যা হয়ত কাম্য ছিল না, কিন্তু অন্যদিকে এমন অনেক সুখ, ভালোবাসা পেয়েছি, তারও আমি যোগ্য ছিলাম