Skip to main content

বই দিবস

আজ বই দিবস। আগের বছরও ছিল। সামনের বছরও হবে। আগের বছর অনেক মানুষ চলে গেছেন। এ বছরও অনেক অনেক মানুষ চলে যাচ্ছেন। অক্সিজেন, ইনজেকশন পাওয়া যাচ্ছে না। বইতে অক্সিজেন বানানোর পদ্ধতি লেখা আছে। বইতে ওষুধ বানানোর পদ্ধতিও লেখা আছে। এও পড়ানো হয়, demand and supply theory মানে কি। এ সব তত্ত্ব বইতে লেখা আছে। কিন্তু এখন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। 

কতবার

দরজায় এসে দাঁড়াবে
আমি চিনতে পারব 

এইটুকু তো কথা
এইটুকু তো আশা

তবু তারই মধ্যে 

কতবার মৃত্যুর যাতায়াত 
উঠতে হল কতবার
কত ভুল মানুষের জন্য

ঘুম

যারা ভোট দিতে গেল
যারা ভোট দিয়ে ফিরল
যারা ভোট করালো
আর যারা পাহারা দিল

কর্তব্য করতে করতে
সবাই আশা করছিল
   সব কর্তব্য শেষ হলে
         একটা টানা ঘুম দেবে

তবু শুধু ছুটতে হবে বলে

আসলে এখন কোনো বিশেষ মৃত্যু নেই। এখন মৃত্যু মানে শুধুই শোক নয়। মৃত্যু মানে ক্ষোভ। আতঙ্ক। আস্থাহীনতা। কোথায় পা রাখবে মানুষ? মাটি বদলে যাচ্ছে। বাতাস বদলে যাচ্ছে। আকাশের রঙ বদলে গেছে। এত এত পুঞ্জীভূত অন্ধকার জমেছিল কেউ টের পাইনি আগে। এখন সেই অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে চেনা রাস্তায় ফেরার চেষ্টা করছি সবাই। তাই কি হয়?

দৌড়ে কি হবে?

পরেশ সামন্ত "ধুর শালা, নিকুচি করেছে ঘুম" বলে উঠে পড়ল বিছানা ছেড়ে। বিছানায় ছারপোকা থাকলে মানুষ এমনিই দার্শনিক হয় - এমন একটা গভীর উপলব্ধি নিয়ে, ঘর্মাক্ত কলেবরটাকে ঘেমে যাওয়া বিছানা থেকে তুলে আবার বলল, শালা। মানদা ঘুমাচ্ছে। ঘুমাক। মূঢ় জীব!

রাস্তা

সেদিন দেখলাম
অমন ব্যস্ত রাস্তায়
ঝরে পড়ে আছে কতশত রাধাচূড়া 

গতকালের ঝড়ে ঝরেছে নাকি

রাস্তা বলেনি ওদের,
   "সরে যাও তোমরা, আমার যে কত কাজ!" 

রাস্তা জানে
সময় হলে ওরা এমনিই যাবে মিলিয়ে, 
   ধুলোয়, ব্যস্ত অবহেলায় 

টগরেশ্বরী

বাড়ি ফিরে দাওয়ার উপর বউকে মরে পড়ে থাকতে দেখে আর বাড়িমুখো হয়নি চিকুন ভিখারি। এমনকি এই অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে গেলে পুলিশে খোঁজ করতে পারে বলেও তার মনে হয়নি। স্রেফ মনে হয়েছে আর বাড়ি থেকে কি করবে, তাই রাস্তায় হাঁটা লাগিয়েছে। আঠারো বছরের দাম্পত্য জীবনে এক মুহূর্তে দাড়ি টেনে দিল।

রবীন্দ্রনাথ ও স্প্যানিশ ফ্লু

রবি ঠাকুরের সময় এসেছিল স্প্যানিশ ফ্লু, ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল। ১৮ মিলিয়ন মানুষ মারা গিয়েছিল শুধুমাত্র ভারতেই নাকি। রবীন্দ্রনাথ কিভাবে সামলেছিলেন? বিশ্বভারতী গড়ে উঠছে, হাজার একটা সমস্যা তো আছেই, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ইত্যাদি। তার মধ্যে এই অতিমারী। 

একটা গল্প

আজ একটা গল্প মনে পড়ছে। আমি কলেজে শুনেছিলাম। 

একটা প্লেন ক্র‍্যাশ হয়েছে। প্রাইভেট প্লেন। দেশের কোনো এক মন্ত্রীর প্লেন ছিল। যদিও কেউ মারা যায়নি, কিন্তু সবাই কোমায়। সুস্থ বলতে একমাত্র একটা শিম্পাঞ্জি, সেও ওই প্লেনেই ছিল। 

মানুষ বাঁচে মনে

গতকালের কথা। দুপুর গড়িয়ে সদ্য বিকাল হয়েছে। এক বিশেষ দলের বেশ কিছু রাজনীতির মানুষ বাড়ি বাড়ি স্লিপ দিচ্ছেন। অবশ্যম্ভাবীভাবেই কারোর মুখে মাস্ক নেই। কারণ, "আমাদের এদিকে তেমন আসেনি"..."পকেটে আছে, এই খুললাম"..."গরম লাগে"...ইত্যাদি নানা ভ্যালিড কারণ তো আছেই। তাছাড়া কপালে থাকলে কে আটকাবে - এর থেকে বড় জীবন দর্শনই বা কি থাকতে পারে! 

Subscribe to