Skip to main content

আত্মপ্রকাশ


আত্মপ্রকাশ কিসে ঘটবে? বেলুচিস্তান না কাশ্মীরে?

পদাদা রোজ ব্রাশ করতে করতে এটা ভাবে। হনলুলু না গোবরডাঙা? কিম্বা বনগাঁ না ক্রৌঞ্চদ্বীপ?

পদাদা এমনিতে হাসিখুশী মানুষ। রাগিয়ে দিলে তুবড়ি। হাসিয়ে দিলে চরকী। ভাবিয়ে দিলে রকেট। বয়েস পঞ্চান্ন। দুই ছেলের বাপ। এক স্ত্রী'র স্বামী।

সোজা কথা

আঁকাবাঁকা কিছু কথায় তুমি সোজা কথাটা ছুঁতে চাও। সোজা কথাটা সিঁড়ির নীচে, ছাদে, হাবুলের চায়ের দোকানের কোণে থাকে লুকিয়ে। তুমি ঘুমিয়ে পড়লে, তোমার বুকের ওপর একলা একলা বেয়ে ওঠে, কেন্নোর মত। কখনো বা সার দেওয়া পিঁপড়ের সারির মত। তুমি ঘুমের মধ্যে টের পাও - সোজা কথাটা তোমার বুকে। সকাল হয়। তুমি হারিয়ে ফেলো।

রাস্তা পেরোলে

রাস্তা পেরোলে
খুব কি হল পার্থক্য?
আগে যেদিকে ছিলে?

যেই চিনেছ

কাজের সূত্র কাজকে চেনায়
   কাজ চেনায় মনকে
মন চিনলে জগৎ সোজা
   বেড়া যাবি টপকে

মনের মালিক তুই তো বটেই
   তোর মালিক সে সেয়ানা
বাইরে আছিস মোহে মেতে
   খুঁজে সুখের বাহানা

সব ভুলে সব আটকে আছে
   জালের মধ্যে ঝপাং ঝপ
মন চিনে নে, মন চিনে নে
   সত্য শান্তি মিলবে সব

ঘরকুনো

ফুলগাছগুলোতে সবে কুঁড়ি এসেছে, আর তুমি কিনা বেড়াতে যাওয়ার টিকিট কেটে আনলে!
আচ্ছা বলো তো, কি করে আমি এই উঠোন ছেড়ে, সমুদ্রের ধারে যাই!
বললেই বলবে, ঘরকুনো! আরে ওরাও তো কত সাধ করে আমার উঠানে বেড়াতেই এসেছে বলো! ছেড়ে যাই কি করে!

ইঙ্গিত

বাঁধ ভাঙার শব্দ
বিসর্জনের শব্দ
ঝরণার শব্দ
তোমার পায়ের শব্দের মত
ঝরা পাতার সজ্জা
সন্ধ্যের উদাস হাওয়া
তারা খসার মুহুর্ত
তোমার আসার ইঙ্গিতের মত

পদচিহ্ন

চৌকাঠ পেরোলাম
বারান্দা পেরোলাম
উঠান পেরোলাম

  রাস্তায় আসলাম
শুধু তোমার জন্য

শুনলাম তুমি ফিরে গেছো
অনেকক্ষণ ওই পাকুড় গাছটার তলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে

তুমি শুনতে পাও নি?
আমি চৌকাঠ পেরোচ্ছিলাম
বারান্দা পেরোচ্ছিলাম
উঠান পেরোচ্ছিলাম

বোঝোনি, সে শুধু তোমারই জন্য?

সন্ধ্যামালতী

মেয়েটার সেদিন সন্ধ্যামালতী ফুল দেখতে ইচ্ছা করছিল। ফুলটা না দেখতে পেলে সে যেন মরেই যাবে আজ। সত্যিই মরে যাবে।

মনসুর

সোজা রাস্তাটা বন্ধ ছিল
বুকের ঘরে আগল ছিল
কান্নাগুলো হিসাবী ছিল
দিনরাত খুব উদাস ছিল

বিধির কি যে খেয়াল হল
রাস্তা ঘুরে কি পাড়া গেল
চিন্তা হৃদ্-আঙনে হোঁচট খেল
কুলকুল কি শব্দ পেল

আসছে শোনে কিসের বান
প্রাণের মূলে মরণটান
মনসুরের সে পাগল গান
সুরে তালে মাতাল প্রাণ

Subscribe to