লজ্জা
রাস্তায় দেখলাম অন্য মহিলা
সমস্ত যৌবন, দুই স্তন আর ক্ষীণ তনু
উন্মুক্ত করে প্রকাশ্য দিবালয়ে
পাগলী?
লোকে বলে তাই
রাস্তার চারিদিকে
ছুটন্ত ব্যস্ত বেহুঁশ মানুষ
পাগলীর দুহাত জোড়া ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো
কাকে পরাবে?
ভেবেছিলাম বুদ্ধি বলবে-
কি নির্লজ্জ অবস্থা
অন্ধকারের আলোয়
সারাক্ষণ আলোর দিকে তাকিয়ে থাকো
যেখানে আলো নেই সেখানে আমি
আমায় দেখবে কি করে?
তুমি হাত বাড়াও শুধু, আমি ধরে নেব
আমি অন্ধকারেও দেখি
অন্ধকারেরও একটা আলো থাকে
যে আলোতে থাকে সে টের পায় না
উত্তর
অন্যকে প্রশ্ন করো
জানতে পারবে
নিজেকে প্রশ্ন করো
বুঝতে পারবে
সময়কে প্রশ্ন করে
অপেক্ষা করো
উপলব্ধি করবে
বল্মীক
হাতের তালুতে অনেক ধুলো জমে তোমার
ঝেড়ে ফেলো এবার
আর কতদিন হাতদুটো পিছনে করে হাঁটবে?
যে বল্মীকে ছেয়েছিল বাল্মীকিকে
সে মাটি জমাতে পারো কি?
আর জানে বিসমিল্লাহ্
কিছু অকথিত কথা
কিছু আত্মভোলা ব্যাথা
কিছু কাছে থাকা দূর
কিছু বোবা কান্নার সুর
কিছু পোড়া চিঠির ছাই
কিছু পালক সুখের ঠাঁই
সানাই জানে
আর জানে বিসমিল্লাহ্
আমি-রা
নিজের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম
দরজা খুলে দেখি অনেক লোক
জিজ্ঞাসা করলাম, তোমরা?!
ওরা একটা অন্ধকার দরজার দিকে ইঙ্গিত করল
সে দরজা দিয়ে ঢুকে দেখি আরো অনেকে দাঁড়িয়ে
আশ্চর্য! সবাইকেই খুব চেনা লাগলেও চিনতে পারছি না
কারা তোমরা? চীৎকার করে উঠলাম
হাজার কণ্ঠের ফিসফিসানি কানে এল-
আমরা তোমারই অতীতের এক একটা খন্ড
আমি বললাম, তবে আমি কে?
দ্বিমেরু
আদি কথা
----------
বেলো যে মিথ্যা বলত তা নয়। মিথ্যাকে সত্যি ভেবে বিশ্বাস করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল ওর মধ্যে। মিথ্যাকে সত্যি জেনে বিশ্বাস করা আর সত্যি মেনে বিশ্বাস করার মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রথমটা অজ্ঞতা। দ্বিতীয়টা হয় দুর্বলতা, না হয় চালাকী।
চিরনূতন
তুমি বললে আমাদের ভালবাসা নাকি পুরোনো হয়ে গিয়েছে
কেমন খটকা লাগল শুনে
প্রেম কি কখনো হয় পুরোনো?
সারারাত ঘুমালাম না, মাথার মধ্যে প্রশ্নচিহ্নের বাড়ি
প্রেম কি কখনো হয় পুরোনো?
সকাল বেলা উঠে ছাদে আসলাম
ডিমের কুসুমের মত রঙ সূর্য্যের
মনে হল এ সূর্যোদয় কি পুরোনো?
লাল সিগন্যাল
সন্ধ্যেবেলা স্টেশানে দাঁড়িয়ে
প্ল্যাটফর্মের শেষে লাল সিগন্যালটা
একলা দাঁড়িয়ে
পিছনে একরাশ অন্ধকার নিয়ে
আড়াল রেখেছি বনফুলে
বুকের মধ্যে একটা আলপিন ফোটালে
জিজ্ঞাসা করলে, লাগছে?
বললাম, না
তারপর একটা বড় পেরেক গাঁথলে
পাঁজর চিরে
জিজ্ঞাসা করলে, লাগছে?
দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, না তো!