কবে?
কানায় কানায় পাত্রটা উঠেছে ভরে
উপুড় করে নেবে কবে?
বৃষ্টি শেষে বাড়ি ফিরে গেছে ছেঁড়া মেঘ
নীলাকাশে ডুবিয়ে নেবে কবে?
সব খেলাঘর ছেড়ে এসেছি
কোণের প্রদীপ নিভিয়ে নেবে কবে?
প্রার্থনার মন্ত্র তাঁর
অফিস থেকে ফিরে লোকটা তার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আদর করতে লাগল। মুখে নানা অর্থহীন শব্দমালা। বাচ্চাটা কোলে খিলখিল করে হেসে উঠতে লাগল।
পাশের ঘর থেকে লোকটার বাবা শব্দগুলো শুনছিলেন। চশমাটা খুলে বিছানায় রেখে, খবরের কাগজটা পাশে মুড়ে, বালিশে হেলান দিয়ে আধা শুলেন। চোখ বোজা।
সব পোড়ে না
কালের আগুনে পুড়ছি সবাই
আমি তুমি সে
পুড়তে পুড়তে হচ্ছি ক্ষয়
প্রতিদিন একটু করে রোজ
ভাষারা সঙ্কেত জানায় যে চোখে
ভালোবাসা একদেশি না
তোমায় ছাড়া বাঁচব না
বলেছিলেন তো
একচোখ জলে
বুকের মধ্যে হাপর সামলে
তবু চলে গেছে
জল শুকিয়েছে
হাপর থেমেছে
'হম তেরে বিন অব রহে নহি সকতে'
গানটা শুনলেও
চায়ে চিনি দিতে ভোলেন না
হিসাবের ফর্দে কাটাকুটি হয় না
রাতে ঘুমে বিচ্ছেদ ঘটে না
সুখ
পারিজাতের রেণু লাগা সুখ
চাইনি তো
তুলোয় ভাসা বাসন্তী সুখ
তাও চাইনি
মোমের মত নরম সুখের আস্তরণ
চাইনি চাইনি চাইনি
চাঁদ
সতীমা'র মেলা
মহাপ্রভু
মগ
অনেক সময় পরিত্যক্ত মগটা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। জল ভরার ক্ষমতা না থাকার খবরটা ওর কানে কেউ তুললেও বিশ্বাস করে না। আমি যতবার ওকে ভাগাড়ে রেখে আসি, ততবার ও হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে আমার বাড়ির উঠোনে এসে বসে থাকে। তাকিয়ে থাকে। মুখে এখনো সেই আত্মবিশ্বাস - আমি পারব, তুমি জল ভরেই দেখো না।