ছায়াপথ
মনের দু'পাশে দুটো হাত দিয়ে আগলে রেখেছো কিছুতেই যেন হারিয়ে না যাও ভিড়ে
বেসামাল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে হাত
কামড়ে ধরো মনের দুটো পা
যাতে পালাতে না পারে
ঝর্নার মত নদী না হয় ছিটকিয়ে
এখন রাত্রি অনেক গভীর
সারা আকাশে রহস্যময় হাসি
অবশ শরীরে তবু আগলে আছো মন
যার শুনেছি জগতখানা
যার শুনেছি জগতখানা, তাঁর এত নেই জোরাজুরি
তাঁর যত সব চ্যালা চামুন্ডা, তাদেরই দেখি তাড়াতাড়ি
যে কোনো ভাবেই মানাতে হবে, শেখাতে হবে 'জি হুজুরী'
কার ভাবে কে পূজা চায় রে, সবই দেখি দেখনদারি!
আপন হতে বাহির হয়ে
'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর’ - আজন্ম শোনা কথা। যত বয়েস বাড়ছে তত হেঁয়ালির মত শোনাচ্ছে কথাটা।
জ্যোতিষী জানেন
জ্যোতিষী জানেন, কার হাতের কোন দাগ কাকে কোথায় নিয়ে যাবে
অথচ জানেন না, কার হাতের পর কার হাত তার সামনে পাতা হবে
মাদল
অসম্ভব যন্ত্রণা নিয়ে জন্মালো একটা তারা
তার জন্মলগ্নেই যেন বিচ্ছেদযন্ত্রণার ব্যথা
সে মহাশূন্যে চোখ মেলে তাকালো
বুকের থেকে ছিটকে পড়ল বিকিরণ
খুঁজল তেষ্টা মেটানোর মত প্রেম
আলোতে অন্ধকারে
রহস্যে সরলতায়
তখন দেরী নেই
সে
মানুষ নিশ্ছিদ্র একাকিত্বে, দুঃসহ যন্ত্রনায়, ঘুমহীন রাতে
নিজের বুকের মধ্যে যাকে খোঁজে, যার সাড়া পায়
তাকে সে বলে ঈশ্বর
সেই স্পর্শের, সেই দৃষ্টির ছায়া যখন সে বাইরে তাকিয়ে কোনো করুণ চোখে দেখে
তাকে সে বলে বন্ধু
গাছ
রমাকান্ত রাত্রের খাওয়া দাওয়া সেরে সবে ছাদে উঠেছে। রাত তখন এই পৌনে এগারোটা। মোবাইলে হেমন্ত'র গান বাজছে - 'বসে আছি পথ চেয়ে...' আহা! প্রাণটা জুড়িয়ে আসছে রমাকান্তর। ফুরফুরে হাওয়াও দিচ্ছে না সাথে! রমার খালি শ্যামার মুখটা মনে আসছে। তার স্ত্রী। তাকে ভবানীপুরের বাড়িটায় রেখে আসতে হল। তা হবে না ছেলেটার মাধ্যমিক যে!