Skip to main content

পর্ণা

পর্ণা সানন্দাটা ভাঁজ করে কোলের উপর রাখতেই চমকে উঠল, সামনের প্ল্যাটফর্মে অনিকেত। অনিকেত দেখেনি। একটা চেয়ারে বসে খবরের কাগজে ডুবে আছে। সেই পুরোনো অভ্যাস।
        পর্ণা শ্যামনগর যাবে। সেখানে একটা হাইস্কুলে ভূগোল পড়ায়। পর্ণার ডিভোর্স হয়েছে বছর নয়-দশ হল। বিয়ে অনেক কম বয়সে হয়। তখন পর্ণা সদ্য গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে। অনিকেতরাও নাগেরবাজারেই থাকত। তার থেকে বছর তিনেকের বড়, সদ্য মার্কেটিং এগজিকিউটিভের চাকরি পেয়েছিল একটা ওষুধ কম্প্যানীতে।
...

সংশয়

সন্ধ্যায় পসার সাজায়ে বসিয়াছে 
   ব্যবসায়ীকূল পথপাশে 
      মনোহারী নয়নাভিরাম সাজে
তীব্র তীক্ষ্ণ উত্তরের বাতাস নখদন্ত মেলি
   ফিরিতেছে পথেঘাটে আপন শিকার লাগি,
      ক্ষণিক অসতর্কতায় আছাড়ি পড়িছে দেহে
                    হিম-দংশন, কোনো ক্ষমা নাহি

তোমায়, না আমায়?

তোমার শরীর মাড়িয়ে রোদ নামেনি কোনোদিন
তোমার বৃষ্টিভেজা চুলের ছাঁট পড়েনি কোনোদিন বারান্দায় 
তোমার ছাদে শুকোতে দেওয়া কাপড় 
কালবৈশাখী উড়িয়ে নিয়ে প্রতিবেশীর ছাদে ফেলেনি কোনোদিন

হিন্দুরা মানুষ-পুজো করতে ভালোবাসে

অবনী কান্ত মাজি । বলুন তো কে? পারলেন না তো? বলছি, একজন আশি ঊর্ধ্ব ধনবান হৃদয়বান মানুষ। কি করেছেন জানেন? বিশাল কাজ, এক্কেবারে যাকে বলে সমাজসেবার চূড়ান্ত। তার জন্য ওনাকে সম্বর্ধনাও জানানো হয়েছে অবশ্য। কারা জানিয়েছেন বলুন দিকিনি? রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের সন্ন্যাসীরা।
...

কারোর সাথে কথা বলা মানে যেন হাঁটতে যাওয়া তার সাথে

কারোর সাথে কথা বলা মানে যেন হাঁটতে যাওয়া তার সাথে। কোনো একটা বিষয়ে কথা শুরু হওয়া মানে যেন কোনো একটা রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু হওয়া। খানিকটা এগিয়ে এলো মোড়। অনেকগুলো বিষয়ে যাওয়ার অবকাশ। কে সিদ্ধান্ত নেবে, কোন দিকে যাওয়া হবে? কোনো কথা যাবে সমুদ্রের ধারে, কোনো কথা যাবে জঙ্গলে, কোনো কথা যাবে বাজারে, কিম্বা হেঁশেলে, কখনও বা নিষিদ্ধপল্লীতে। কেউ একজন সিদ্ধান্ত নিল, কথা চলল সেই পথে, মানে আবার হাঁটা তার সাথে। চলতে ভালো লাগল তো এগোনো গেল, নইলে খানিক এগিয়ে আবার গলি খোঁজার চেষ্টা, পথ বদলাতে হবে যে।
...

ঝাঁটা

রোজ সকালে আধঘন্টা ধরে ঝুঁকে পুরো উঠোনটা ঝাঁট দিতে হয় রুকমির মাকে। আজ পঁচিশ বছর ধরে দিয়ে আসছে। তার আগে তার শাশুড়ি দিত - অশোকের মা। 
        রুকমির মায়ের অসহ্য লাগে। শরীরখারাপের সময়টা আর শীতের সময়টা। ভেবেছিলো অশোকের মা ঘাটে উঠলে এই ঝাঁটা দেওয়ার চলটা উঠিয়ে দেবে। মাসে একবার কি দুবার দেবে। শরীরখারাপের পর আর কম শীতের সময় বাদ দিয়ে।
...

কবরস্থান

        লোকটা উঁচু পাঁচিলটা টপকিয়েই বুঝল কবরস্থানে ঢুকে পড়েছে। উপায় ছিল না, বড় দরজাটায় তালা। না টপকিয়ে ঢুকত কি করে? 
        শীতের রাত। কুয়াশা কুয়াশা চারদিক। কেউ একটা বসে না? কাছে গিয়ে দেখে একটা লোক, তার দিকে পিছন ফিরে। তার পাশে একটা ক্রাচ রাখা।
...

বিষয়ীর দেবস্বপ্ন

লুচ্চকবাবু কালরাতে স্বপ্ন দেখে কেঁদেছেন। কেউ জিজ্ঞাসা করলেই ঠাকুরঘরের দিকে আঙুল তুলে দেখাচ্ছেন। কথা বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসক এসে বলেছেন ঘুমের ঘোরে তীব্র মানসিক আঘাত পেয়ে শিরা-ধমনী-স্নায়ু গিট্টু পাকিয়ে গেছে।
        লুচ্চকবাবু আর কয়েক ঘন্টা টিকলেন। যতক্ষণ টিকলেন ঠাকুরঘরের দিকে আঙুল তুলে, 'উঁ উঁ' করে কিছু বলতে চাইলেন। ওনার স্ত্রী, দশ ছেলে, দশ ছেলের বউ, চল্লিশটা নাতি-নাতনি, পাঁচশো দাসদাসী ভাবলে, কত্তাবাবার ঈশ্বরদর্শন হয়েছে।
...

ভালোলাগা

সূর্যের আলো কাঞ্চনজঙ্ঘায় লেগে বিচ্ছুরিত হোক
   কি ঘাসের আগায় জমা শিশিরবিন্দু থেকে
   তুলনার প্রাচীর টেনে
        ভালোলাগাকে খণ্ডিত করি না
           অপমান করি না সূর্যকেও
Subscribe to