শান্ত হব বলে
সব ক'টা তারাতেই
চন্দ্র, সূর্য-
এমনকি গনগনে চিতার আগুনেও
ঠোঁট ছুঁইয়ে এসেছি
পুড়িয়ে এসেছি
শুধু একবার তোমার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াবো বলে
শান্ত হব বলে
বৃষ্টি ভেজা পালকগুলো শুকিয়ে নেব
তাই
ভাড়ুদত্ত তার্কিক
সামনে একটা জবাগাছ। জবা ফুটে আছে। সেটাই স্বাভাবিক। জবাগাছে জবাই ফুটবে। দার্শনিক মশাই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জিজ্ঞাসা করলুম,
- বলুন তো এটা কি ফুল? (উনি জবা চেনেন না তা নয় তবু ঠাট্টার কারণে)
উনি ফুলটার দিকে তাকিয়ে বললেন,
- রজনীগন্ধা তো নয়...
- তবে কি ফুল?
- ডালিয়াও নয়
সকাল হলেই
মালী ভোরের অপেক্ষায় বসে। গতরাতে তার বাগানে ফুটেছে গুচ্ছগুচ্ছ রজনীগন্ধা, বেলি, জুঁই।
বাজারে যাবে সকাল হলেই।
জেলে আছে ভোরের অপেক্ষায়। শেষরাতে ধরা পড়েছে রুই, কাতলা, মৃগেল। প্রচুর প্রচুর।
বাজারে যাবে সকাল হলেই।
শাক তুলে, লাউ তুলে, ডাঁটা তুলে..আরো কত কি তুলে অপেক্ষা করছে চাষী ভোরের সিমফুলের মত আকাশের।
বাজারে যাবে সকাল হলেই।
এরা কেউ জানে না
ঘাড় উঁচু করে
ঘাড় উঁচু করে হেঁটে চললে
ভাবলে মাথাও থাকলো উঁচু
ঘাড় নমনীয় না হলে ভাই
মাথা কি থাকে উঁচু?
তখন আমি অনেক ছোটো
(আজ সুমনের জন্মদিন। এই লেখাটা ওর জন্যেই, আমার ছোটোবেলার একটা টুকরো। এর থেকে বেশি নিজের আর কি দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব তাকে, আমার এই লেখালেখি যাবতীয় কিছুর মূলেই যার প্রেরণা-উৎপাত।)
প্রজাপতি
প্রজাপতি বলল, মধু কই?
ফুল বলল, মধু তো নেই
আছে সাজ। ঠিক ওই ফুলের মত।
প্রজাপতি বলল, কিন্তু সে ফুলে যে আছে মধু
তার আছে সে সাধন,
তুমি তো রিক্ত। শূন্য অনুকরণ।
প্রতিবাদ হোক, বেইমানি না
একটা দেওয়ালে হাতুড়ি মারল কয়েকজন। তারা ভেবেছিল হাতুড়ির বাড়ি পড়তেই ইটগুলো ফুল হয়ে এসে তাদের পায়ের কাছে পড়বে। কিম্বা ইটগুলো বকের মত আকাশে উড়ে মিলিয়ে যাবে।
হল না। ইটগুলো হুড়মুড় করে পড়ল পায়ে। পা ভাঙল। ইটের কুঁচি চোখে এসে পড়ল। চোখের সাদা হল লাল।
নিভৃত
১
====
নিভৃত জীবন
গোপনীয় নয়
একান্ত ব্যক্তিগত
২
====
তোমার নিজস্ব হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা আছে
আমারও আছে
তোমার প্রতিবাদ
তোমার প্রতিবাদ
ঝোড়ো হাওয়ায় দাবানল লাগিয়ে
আমার প্রতিবাদ
ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরের কোণের
প্রদীপ আগলিয়ে
এখন আমার অষ্টপ্রহর যন্ত্রণা
এখন আমার অষ্টপ্রহর যন্ত্রণা
ডুব সাঁতারে শামুকে কাটা পা
চাতক তৃষ্ণা
এক পশলা তুমি
ঘুণ লেগেছে সুখের সারা গা