Skip to main content

অন্তরে আর বাহিরে তাই..

রাধাকান্তবাবুর বহুদিনের অভ্যাস, ঘুম থেকে উঠে কখনও হাতে তালি দিয়ে, কখনও খোল বাজিয়ে, খঞ্জনি বাজিয়ে রামনাম করেন। কখনও "প্রেম মুদিত মন সে কহো রাম রাম রাম, শ্রীরাম রাম রাম"....কখনও "শ্রীরামচন্দ্র কৃপালু ভজ মন".. এইসব ভজন গান। বাড়ির লোক, পাড়াপ্রতিবেশী সকলে তার সরল প্রাণের ভক্তিতে আবিষ্ট হয়ে, সাধু সাধু বলেন। 

ক্ষণিকের দেখা হওয়া

ক্ষণিকের দেখা হওয়া
তারপর ফিরে যাওয়া
এইটুকু তো কাব্য
মন খারাপের শুরু
আর
মন খারাপের শেষ হওয়া


(ছবি Aniket Ghosh)

সবাই সেক্যুলার

ভারতবর্ষে কে না সেক্যুলার, ধনি?
আমরা সবাই সেক্যুলার
নিজের মত করে সবাই সেক্যুলার

আমাদের মন্দির মসজিদ গীর্জা সব সেক্যুলার 

স্কুলের সরস্বতীপুজো থেকে
    থানায় কালীপুজো
        কারখানায় বিশ্বকর্মা 

         সব সেক্যুলার 

জানি পলাশ এসেছে

জানি পলাশ এসেছে

জানি বসন্তের বাতাস বইছে অহরহ

কিন্তু বলো তো প্রেমিক
    এ বসন্তে কিসের দাহ বেশি?
       হৃদয়ের, না পকেটের? 

কে বেশি যাতনাময় 
   বসন্তের কোকিল? 
       নাকি সিলিণ্ডার আর পেট্রোল? 

"রোদনভরা এ বসন্ত, সখী কখনও আসেনি বুঝি আগে"....

কিছু যেন তার

যেন সব কিছু
   ভুলে যাওয়ারই কথা ছিল 
যেন তবু মনে পড়ে যাচ্ছিল 
যেন সব দেখাশোনা শেষ 
   কেউ তবু ফিরে ফিরে ডাকছিল
চলতে চলতে 
  সব অভিমান 
      ধুলোয় লুটিয়ে পড়ছিল
 যেন এই তো সবে শুরু
       সূর্য তবু পশ্চিম আকাশে ঢলছিল 

দূর থেকে

দূর থেকে মনে হয়
    ভীষণ কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আমরা

কাছে এসে দেখো
   এক একজনের মধ্যে 
         যোজন যোজন ফাঁক
   সেখানে বিস্তর অন্ধকার
     আশ্রয় দিয়েছে কিছু জোনাকিদের

  দূর থেকে মনে হয় যেন তারা

শুধু তোমার কথা মনে পড়ে

আমার পুরী যেতে ভালো লাগে না
   সারাদিন সমুদ্রের একটানা গর্জনে 
       আমার তোমার কথা মনে পড়ে 

আমার লাভা, লোলেগাঁও, দার্জিলিং, কালিম্পং যেতে ভালো লাগে না
    কুয়াশায় ঢাকা স্থির নিশ্চল পাহাড় দেখতে দেখতে
     আমার তোমার কথা মনে পড়ে 

অনবগুন্ঠিতা

হাতটা ঘামছে। বাজারের ব্যাগের জন্যেই ঘামছে। সারাটা শরীরও অল্প অল্প ঘেমে। মাঝে মাঝে মনে হয় জাহাজের মাস্তুল ধরে একাই দাঁড়িয়ে আছি আমি। জাহাজ পাড়ে ভিড়বার অপেক্ষায়, নইলে ডুবে যাওয়ার। জাহাজ যে কোনো পাড়েই ভিড়ুক না কেন আমার কিছুতেই কিছু এসে যায় না। সব পাড়ই সমান এখন আমার কাছে, কোনো পাড়েই কেউ নেই।

বল জয় হরি

সারাদিন ভাবিস আমি শুয়ে বসে থাকি
তোরাই যত কাজ করিস, আমি দিই ফাঁকি
কত কি যে ভাবি আমি 
                    রাতদিন শুয়ে
কত তত্ত্ব, কত কথা, 
                     মনে আসে ছেয়ে
মেঘ হয়ে সে কথারা করে গড়গড়
বৃষ্টি হয়ে মাথার মধ্যে নামে ঝরঝর

আমার ঈশ্বর

স্নান সেরে, শুচি বসনে, মন্দিরের শুদ্ধ পবিত্র আসনে বসে জপ করে যখন বাইরে এলাম, যখন নর্দমার পাশে পড়ে থাকা অচেতন মাতালের পাশে বসে থাকা অসহায় আকুল স্ত্রীর চোখের দিকে তাকালাম, তখন বুঝলাম, আসলে এতদিন আত্মশ্লাঘাকে ঈশ্বরের উপস্থিতি বলে জেনেছিলাম নিজের বুকের মধ্যে, ঈশ্বর তো ওই যে, নর্দমার পাশে বসে, সমস্ত অশুচি, অপমান মেখে ভালোবাসায়, অমনি শুচির আগল খসে পড়ল, সমস্ত বিশ্বজুড়ে এক সর্বগ্রাসী আলো বন্যার মত আছড়ে পড়ল, আমার সামনে কেউ নেই, শুধু তুমি, আমার আগলহীন ঈশ্বর, আমার শ্লাঘার ঈশ্বরকে ছাপিয়ে, আমায় কাঁদিয়ে, ভাসিয়ে, ছাপিয়ে, আমার সমস্তব্যাপী ঈশ্বর।  
Subscribe to