হতেও তো পারত!
তোমার আঁচলের খুঁটে কটা শব্দ বাঁধা থাকত, গোপনে।
ওদের কি করলে?
কুটনো কুটতে গিয়ে, কেটে ফেলছো?
শাক ধোয়া জলের সাথে ভাসিয়ে দিয়েছো নর্দমায়?
না বোধহয়।
তোমার চুলের কাঁটার সাথে কিছু শব্দ আটকে আছে, এখনো।
ওরা তোমার দু-একটা পাকাচুল নিয়ে খেলে,
তুমি চাইলে ওরা তোমায় খোলা আকাশে নিয়ে যেতে পারত
গ্যাস বেলুন দেখেছিলে না, ময়দানে?
ফুলগুলো
পাপড়িগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে
ফুলদানীতে সাজালে রোজ
ভাবলে প্রজাপতি আসবে
তোমার শোয়ার ঘর রঙীন করে
হল না।
তুমি জানতে না
পাপড়ির সাথে বৃন্তের কি সম্পর্ক
বৃন্তের সাথে কি কথা বলে শিকড়
আমার আকাশ
যদি মনন, চেতনার হাত ছেড়ে ছোটে?
যদি অনুকম্পার কণ্ঠ, প্রকাশ ভঙ্গীর অলঙ্করণে পড়ে চাপা?
যদি স্থির জলাশয়ের স্বচ্ছ তলদেশ দেখাটা হয় অতিসরলীকরণ,
দেখতে হয় তাকে - গুলিয়ে, নেড়ে, ঘেঁটে..তারপর আন্দাজে তলদেশে ছুঁয়ে?
যদি বলতে চাওয়ার তাগিদের চেয়ে, বলতে চাওয়ার ভঙ্গীতে করতে হয় মুগ্ধ?
এই যা রক্ষে!
কত ভদ্রতা দাঁড়িয়ে আছে
দর্জির সাথে দর করে,
কত চরিত্র দাঁড়িয়ে আছে
(দরজা জানলার)
ছিটকিনিতে ভর করে
চোখে তো পড়ে কত কিছুই
ভাগ্যে অনেক কিছুই যায় এড়িয়ে
শুভদৃষ্টি
যতবারই চাঁদের সাথে চোখাচোখি হয়
কত জন্মের শুভদৃষ্টির কথা মনে পড়ে
সেদিন শ্রাবণের পূর্ণিমা
মেঘের ঘোমটা টেনে
চাঁদ আসল আমার নিকানো উঠানে
অনেক গভীর রাতে।
আদিম ভাষা
অন্য কোনো ভাষায় কথা বলবে?
যে ভাষাতে মিথ্যা বলা যায় না!
সাজানো শব্দরা কর্পূরের মত উড়ে যায়
সে ভাষার ভাষা আমি জানি,
তুমিও জানো
সে অনুচ্চারিত চিরটাকাল
তবু প্রকাশিত
তার উপরে আমার সৌখিন ভাষার প্রলেপ
মিথ্যার বুনুনিতে প্রাণের স্বাচ্ছন্দ্য মরে দম আটকে
আমি মূক হয়ে বলি কথকতার জাল
বধির হয়ে শুনি মিথ্যার বিষাদাবলী।
বিপত্তি
মানুষটা খুব কষ্টে সংসার চালিয়েছেন
এতটুকু অপচয় বরদাস্ত করেননি কোনোখানে
এখন বয়েস হয়েছে,
বুঝছেন, তার বাড়ির লোকও অপচয় পছন্দ করে না একরত্তি।
যত্তসব বাজে খরচ,
অনর্থক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাশুল গোনা-
কি বিপত্তি!
মানুষটা
মানুষটার ভিতরটা ছিল সমুদ্রের মত ভর্ত্তি।
লোকে ঢিল ছুড়লে,
এমনকি থান ইঁট ছুঁড়লেও জল ছলকাতো না,
গর্জে উঠত না সে
যেমন পুকুরে ডোবায় হয়,
কারণ লোকটার ভিতরটা ছিল সমুদ্রের মত পূর্ণ।
সুন্দর
যা থাকার না
তা থাকে না।
যে থাকার না
সে থাকে না।
তবু
ফাঁকা ঘরটাতে আলপনা দাও
সুন্দর করে।
শূন্যতাকেও ভরিয়ে তোলো নতুন করে।
আছি, আসছি, এসেছি
অভিমানের ঘরের দরজা বন্ধ হোক
সে আসুক, যে জন্মালো এই গভীর রাতে
বাঁশি বাজুক আবার,
নূপুরের রিনিরিনি শব্দের সাথে বাজুক
বনের মর্মর
আমি কান পেতে গভীর গহন আলোয়