Skip to main content

দুঃখ নিজেকে দু-টুকরো করে

দুঃখ নিজেকে দু-টুকরো করে
   এক টুকরো আমার হাতে দিয়ে বলল -
             চেখে দেখো!

আমি চাখতে চাখতে
   বাকি টুকরোটার দিকে তাকিয়ে
        ভুরু কুঁচকে, তিতো আসক্তিতে
 

আমার পৃথিবী

তোমার কপালে যে টিপ
             আমার পৃথিবী

কথাটা সত্যি নয়
আবার মিথ্যাও যে নয়

দীর্ঘশ্বাস

        লোকটা একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলবে বলে একটা বড় শ্বাস নিল। বুকটা এত্তবড় হয়ে গেল যে পাঁজরে আওয়াজ হল কট-কট-কট্টাস করে। ফুসফুসটা এত্তবড় হাঁ করল যে তার আলজিভ পর্যন্ত গীর্জার ঘন্টার মত দুলে উঠল। ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস, ব্রঙ্কিওল, অ্যালভিওলাই জুড়ে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। এত্ত জোরে বাতাস ঢুকছিল যে কয়েক যুগ অত বাতাস নেয়নি লোকটা। প্রতিটা কোষ নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল -

একাকীত্ব

তুমি নির্মল একাকীত্ব চেয়েছিলে

পেলে

ধুলো উড়িয়ে

ধুলো উড়িয়ে, মাটি কাঁপিয়ে তো গেলে 
তোমার ক্ষমতা আছে মানলাম

কিন্তু ধুলো না উড়িয়ে, মাটি না কাঁপিয়ে
          গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতে কি?

জানা হল না
 

বাজার

আমার মতো দেখতে কেউ একজন
বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাইরে গেল
খানিক পরে বাজারের ব্যাগ নিয়ে ফিরে এল
                          সে অন্য কেউ

ব্যাগ খুলে দেখলাম
বাজারে নানা সামগ্রীর সাথে রক্ত মাখা একটা পোশাক

তোমার শহরেও ভোর হল

ঝড়ে সব ক'টা রজনীগন্ধা ক্ষেতে শুয়ে পড়ল
এমনই প্রচণ্ড ঝড় হল
পরেরদিন, যেই না সুয্যি উঠে ফুটফুটে সকাল হল
  তারা সব্বাই ধুলো-জল ঝেড়ে 
      হুররে করে, সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ালো

গবেষণা

কোন চিকিৎসকের কাছে না গেছে লোকটা? কেউ সুরাহা দিতে পারেনি। বিদেশেও গেছে, কেউ কেউ বলে। নিন্দুকেরা বলে, উঁ! বিদেশ গেছে না ছাই... সুন্দরবনে গিয়ে সেঁধিয়ে ছিল। সে যাই হোক, লোকটা চেষ্টার অন্ত রাখেনি। তার একটাই সমস্যা – কেন কুড়িটা নখ আর তেত্রিশ হাজার উনপঞ্চাশটা মাথার চুল বেড়ে বেড়ে যাবে প্রতিদিন, প্রতিমাস, প্রতিবছর। সব চিকিৎসকের একটাই কথা – এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তারও একটাই কথা – নিয়ম বলেই মানতে হবে?

দড়ি

        সংখ্যায় বিশ্বাসীরা, সংখ্যা বাড়াতে বাড়াতে কোথাও একটা ঠেকলেই বিরক্ত হয়। তখন গোনায় মানুষ বাধা হয়ে এসে পড়লেও সরিয়ে দিতে হয়। সংখ্যায় বিশ্বাসীরা পাগলের মত গুনে চলে, ১.. ১০০.. ১০০০০... ১০০০০০০। সামনে কাউকে সহ্য করতে পারে না। নিজের ছায়াকেও নয়। একটা গল্প বলি।

Subscribe to