লাল সিগন্যাল
সন্ধ্যেবেলা স্টেশানে দাঁড়িয়ে
প্ল্যাটফর্মের শেষে লাল সিগন্যালটা
একলা দাঁড়িয়ে
পিছনে একরাশ অন্ধকার নিয়ে
আড়াল রেখেছি বনফুলে
বুকের মধ্যে একটা আলপিন ফোটালে
জিজ্ঞাসা করলে, লাগছে?
বললাম, না
তারপর একটা বড় পেরেক গাঁথলে
পাঁজর চিরে
জিজ্ঞাসা করলে, লাগছে?
দাঁতে দাঁত চেপে বললাম, না তো!
উতলা
আমার খুব রাগ তোমার চোখের পাতার উপর
কেন তারা যখন তখন পড়ে?
আর যেখানে সেখানে ঝরে?
আমার খুব হিংসা তোমার ঠোঁটদুটোর ওপর
কেন নিজেদেরকে ছোঁয়
আর নিজেকে আদর করে?
আমার খুব ঈর্ষা তোমার পোশাকগুলোর ওপর
কেন তাদের সাথে এত আঁট তোমার?
আমায় পাগল করে ছাড়ে
আমার খুব লোভ তোমার গায়ের গন্ধের ওপর
কেন তারা আমার গায়েও নেই?
যে এতই উতলা করে?
সেই ঢের
আমার কথা তুই বুঝিস না,
এত নিশ্চিন্ত তাই তোকে নিয়ে
আমায় তো বুঝিস!
আমার কথার জালে আমি নিজেই থাকি জড়িয়ে,
তুই ছাড়া তোর প্রাণের আনন্দে
আমার ভাবনা পেরিয়ে আমায় ছুঁতে তো পারিস!
আমার গান, তাল, লয় কিছুই বুঝিস না,
মুখ্যু ঢেকি
কেন গাইতে চেয়েছিলাম, সেটা তো বুঝিস!
মোহভঙ্গ
কি মুগ্ধতা ছেয়েছিল তোমার চোখে!
তুমি ফেরার রাস্তা ছিলে ভুলে
তারপর?
তারপর যা হওয়ার তা হল
মুগ্ধতা রঙ হারাল
ফেরার রাস্তা নতুন রঙ পেল
ঝোড়ো বাতাস
ঝোড়ো বাতাসে কার কথা খুঁজিস মন?
ঘরের আনাচে-কানাচে কার গন্ধ চাস?
সকাল বেলায় দরজার নীচে
পড়ে থাকা খবরের কাগজ
তুলতে তুলতে রাস্তার দিকে কেন তাকাস?
কল থেকে জল পড়ার শব্দে, টিকটিকির ডাকে,
টয়লেটের ফ্ল্যাশের আওয়াজে, তোর পুরোনো
দিনের ছবি আটকে, জানি।
অভিযোগ
আমার অন্যমনস্কতাকে উদাসীনতা ভাবলে
ভাবলে তোমায় দিচ্ছি ফাঁকি এড়িয়ে গিয়ে
ভুল করছ
আমি ফাঁকিতে পড়েছি চিরটাকাল
ফাঁকি দিই নি কখনো
এড়িয়ে গেছি অভিযোগের পরামর্শ সাবধানে, উপেক্ষায়
নিজের সাথেই খেলেছি বাঘবন্দি খেলা
তবু অন্যের অভিযোগ থেকে পারিনি বাঁচতে
এই ভাল,
না হয় অভিযোগেই থাক যোগাযোগের সাঁকো
আশা
একজন মানুষ সারা জীবনে কটা বসন্ত পায়?
সে জানে না
তবু সে প্রত্যেক বসন্তে করে বর্ষার জন্য অপেক্ষা
প্রত্যেক বর্ষায় করে কাশের জন্য প্রতীক্ষা
সেই নদীটা
রাস্তার ধারে ধারে একটা বিষন্ন নদী
আমার চলা-ফেরার দিকে তাকিয়ে থাকে
অপলক
আমাদের দৃষ্টি বিনিময়ের মধ্যে থাকে
কিছু কথা লুকানো
জানি সে কথাগুলো ওর বুকে নুড়ি হয়ে
Lunatics
We, few friends were returning from Puri. Down Puri Express of 8pm.
We had reached the station quite early. Train was already waiting at platform.