নতুন করে
রোজ কিছুটা রাস্তা একলা হেঁটে এসো
কারোর সাথে কথা না বলে
ফেরার জন্য তাড়া না রেখে
ফেরার পথকে রেখো
চলার পথে গোপনে।
না-রাখা কথা
যখন কেউ কথা দিয়ে না রাখে
কষ্ট হয়, সবার যেমন হয়,
এমনকি যে রাখেনি তারও হয়
মনে হয় তার পিছনে পিছনে হাঁটি
ছায়ার মত
সে থাকুক আপন মনে
আমি নোঙর তুললাম
আমি কি তোমার জন্য অপেক্ষা করব?
না, আর না
যে অপেক্ষা অপেক্ষাতেই শেষ হয়
আমি সে অপেক্ষার অপেক্ষায় থাকব না
আমি নোঙর খুললাম
তোমায় পেলাম না
না হোক কিছু দুর্যোগ পাক আমায়
কূল তুমি চিনতে, ধ্রুবতারাও তুমি জানতে
আমি কিছু চিনি না
আজ চেনার দরকারও নেই
চেনা সুখ থেকে অচেনা ঝড়
অনেক বেশি বাস্তব আমার কাছে
আমি ভাসলাম
দিগন্তরেখায়
তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে
সমুদ্রকে পিছনে রেখে দাঁড়িয়ে আছি
বহু শতাব্দী ধরে
পায়ের শিরা ফেটে রক্ত পড়েছে বালিতে
ধুয়ে নিয়ে গেছে সমুদ্রে
মুক্ত এসেছে ঝিনুকের খামে
ফিরিয়ে দিয়েছি
শুধু তাকিয়ে থেকেছি তোমার চোখে
সে আছে বলে
ছল
ভেবেছিলাম তোমায় আমি দেব
আমার যা কিছু সব উজাড় করে
দিলাম তোমায় এমন কিছু
ভাবিও নি যা দিতে পারি
গর্বে মেতে ঘরে ফিরি
এমন দান পাও নি জীবন ভরে!
ঘরে এসে চমকে উঠি
সারা ঘরে একতিলও নেই স্থান
রাখি পায়ের পাতা
সবখানেতে তোমারই দানে ভরে!
শোনা- জানা
লোকটা কোনোদিন লঙ্কা খায় নি শুনেছিলো ঝাল
সে লঙ্কা দেখলেই বলত, উঃ কি ঝাল!
লোকটা কোনোদিন তেঁতুল খায় নি
শুনেছিল টক
সে তেঁতুল দেখলেই বলত, উঃ কি টক
লোকটা এই ভাবে করলা দেখলে বলত, ইস তেতো!
কুমড়ো দেখলে বলত, ইস মিস্টি!
তাকে একদিন বাজারে পাঠানো হল
বাজারে গিয়ে সে একসাথে সব দেখে ফেলল গুলিয়ে
তৈরী তো?
কে যেন বলে
বেশ জোরের সাথে বলে
আত্ম-বিশ্বাসের সাথে বলে
আমার কানে কানে বলে
তৈরী তো?
জানি
রাস্তাটা শেষ হবে আরেকটুখানি এগোলে, জানি
তবু হাঁটছি
তোমার হাতটা আরেকটু পরেই ছেড়ে যাবে, জানি
তবু আঙুলে আঙুল রাখছি
তোমায় বাঁধিনি আমি, নিজেকে বেঁধেছি, জানি
তবু কোথাও একটা বাঁধন খুঁজছি
আমার জীবন 'তবু' তে আটকে জানি
তবু চলার পথে 'কিন্তু' কে দূরে রাখছি
ধূলোর মত যারা
সবাইকেই একই রকম দেখতে
রিকশাওয়ালা, মিস্ত্রী, সব্জীওয়ালা
এরকম আরো অনেকের মুখগুলো
আলাদা করে চিনতে পারি না
তাকানো হয় না কখনো ভাল করে
লুঙ্গি পরা, কালো গায়ে গেঞ্জি অথবা জামায়
সবাই একই রকম
আমার মানিব্যাগের সাথেই সম্পর্ক ওদের