মমি
হাত বাড়ালে
স্পর্শ দিও
শর্ত দিও না
অনেক হাত
শর্ত নিয়ে
থমকে আছে
মমির মত
সবার উপরে মানুষ সত্য
মানুষ মানুষের চাইতে অতিরিক্ত বেশি কিছু চায়। অতিমানবিক ক্ষমতা চায়, অতিমানবিক ঈশ্বর চায়, অতিমানবিক দর্শন চায়। কিন্তু সে সবই তার বিকারের চাওয়া। কথামৃতে একটা গল্প আছে, একজন বিকারের রুগী ঘরে শুয়ে শুয়ে বলছে, “ওরে আমি এক জালা জল খাব রে, ওরে আমি বিশমণ চালের ভাত খাব রে।“ বদ্যি বাইরে দাওয়ায় হুঁকো খেতে খেতে বলছেন, “ওরে খাবি খাবি, আগে জ্বরটা সারুক।“
অমিতাভ
যে হাতদুটো
যে হাতদুটো প্রবল উৎসাহে জানলার কপাট দিত
দরজায় খিল দিত
এখন তার জানলা দরজার আগল খুলতেই মুক্তির স্বাদ
সিঁথির সিঁদুরের দাগ কাঁপা
দ্বিধায়
সাতপাকের সুতোয় ঘিরছে ফাঁসের ঘের
ইচ্ছা
কথাগুলো ডুবুক
ভাবনাগুলো পথ হারিয়ে হোক নিরুদ্দেশ
আমার অনেক দিনের শখ
আমি একটা আস্ত সূর্যাস্ত দেখি -
দেখতে দেখতে সারা আকাশে ফুটুক একটা একটা তারা
সন্ধ্যাতারার হাত ধরে
আর ধীরে ধীরে মনের ভিতর ভরুক জুঁইয়ের সুবাস
সেজো না
সেজো না। আগেও বলেছি তো।
এসো অনাড়ম্বরে
তুমি আমার প্রতিদিনের,
বিশেষ দিনের নও তো!
শম্ভু মিত্র
ভিজে কাক
এলোমেলো ঝোড়ো হাওয়ায় কাঁপছে ভিজে কাক একটা সামনের আম গাছটায়।
বৃষ্টি মায়ার মত হাত বাড়িয়ে বলল, ভিজে আকাশটা ছুঁয়ে দেখো একবার....
ভিজে আকাশটা ছুঁয়ে কাকটার গায়েও হাত বুলিয়ে ফিরলাম।
ওর শরীরে নিবিড় আত্মীয়তা
এ কাক নয় তো!
এ তো কাকের শরীরে আমার অসম্পূর্ণ কান্নারা!
বাগানে একটা গোলাপ ফুটে আছে
বাগানে একটা গোলাপ ফুটে আছে। সারাটা বাগানে এই একটাই গোলাপ। তবু ওকে একা লাগে না। ওর উপর যখন মাঝে মাঝেই একটা হলুদ প্রজাপতি এসে বসে, বেমানান লাগে না। কিম্বা কখনো কখনো যখন একটা সরু সবুজ ফড়িং এসে বসে, ভালোই লাগে তো দেখতে।