নিঃস্ব রাজার চেলা
মাথাটা যখন খুব ভারী
চোখটা যখন ঝাপসা
যখন পায়ে অদৃশ্য শিকল
বুক নিরুৎসাহে ভ্যাপসা
তখন বাইরে এসে দাঁড়া
নীচুর দিকে তাকা
জলের মত হ
তুই যে নিঃস্ব রাজার চেলা
উপলব্ধি
প্রশ্ন কোরো না
আমি উত্তর জানি না
আমার হাতে অনেক রেখা
কোনো জ্যোতিষীর হাতে হাত রেখে
উত্তর পায় নি ওরা
আমার মাথার মধ্যে জিজ্ঞাসাগুলো
এলোমেলো তারার মত সাজানো
আমি অন্ধকারে ডুবে আছি
তবু ভোরের আকাশের দিকে
চেয়ে থাকতে থাকতে মনে হয়
আমার প্রশ্নগুলোর দরকার নেই
উপলব্ধির কোনো প্রশ্ন থাকে না
প্রশ্ন থাকে না ছুঁতে পারা তারার
যদি সেটা মাতৃভাষা হয়
একটা ভাষাই এ জন্মে জন্মান্তর ঘটাতে পারে
যদি সেটা মাতৃভাষা হয়
একটা ভাষাই মায়ের আঁচল
বিশ্ব আঙিনায় আনতে পারে
যদি সেটা মাতৃভাষা হয়
একটা ভাষাই আমার সাথে আমার বুকে নামতে পারে
যদি সেটা মাতৃভাষা হয়
একটা ভাষাই চিন্তামণির সব জ্যোতিতে রাঙতে পারে
যদি সেটা মাতৃভাষা হয়
তীর্থযাত্রা
দেহের সাথে আত্মা গেল তীর্থে
দুজনেই ফিরল
আত্মা ফিরল সারা গায়ে মেখে লাল আবীর
শরীর ফিরল মেখে ধূলো
শরীর বলল, ভাই এটা কেমন হল?
তুমি পেলে রঙ, আর আমি মাখলাম ধূলো!
আত্মা বলল, তুমি গিয়েছিলে পেতে
আমি গিয়েছিলাম দিতে
যে চায়, সে পায় ধূলো
যে দেয়, সে রঙীন হয় প্রেমে
প্রভু
আপন বলতে
মন ডুবে যা শব্দতলে
বাক্য সেথায় ডুবতে নারে
মিলবে সে মুখ, অনন্তসুখ
জ্বলছে রে তোর হৃদ-মাঝারে
তারে বেঁধে আনবি পাড়ের কাছে?
কোনোকালেই হবে না তা
জগৎ বাঁধা তাঁর দুয়ারে
তোর ভ্রমের শেষে শিখি পাখা
ডুব দে রে মন, পাড়ে সে নেই
কথার ফাঁদে হারাস নে খেই
অহং অন্তে পারবি জানতে
আপন বলতে সেই শুধু সে-ই
কালবৈশাখী
একলা একটুকরো হাওয়া আমার শোয়ার ঘরে
আমার দিকে তাকিয়ে বলল, চেনো আমায়?
আমি স্মৃতির জানলা খুলে, যতদূর চোখ যায় চাইলাম, চিনলাম না
বললাম, কে তুমি?
সে বলল, তোমার দীর্ঘশ্বাস
সুন্দর
আমার একটা অভিযোগ
তুমি বড্ড বেশি সুন্দর
আমার একটা স্বীকারোক্তি
আমি বড্ড বেশি লোভী
আমার একটা সিদ্ধান্ত
আমি বঁড়শি হাতে না নেবো
আমার একটা উপলব্ধি
তুমিই আমার প্রাণের কবি
সংশয়ী
কে বলল, সন্ধ্যা হয়ে গেছে
আমি বললাম, ফিরবে কি?
উত্তর পেলাম না
কে বলল, সন্ধ্যা হয়ে এল
আমি বললাম, আলো জ্বালি?
উত্তর পেলাম না
কে বলল, সন্ধ্যা কি হয় নি?
আমি বললাম, হয়েছে তো
সে বলল
তবে ঘরে ফেরো নি কেন?
আলো জ্বালো নি কেন?
আমি নিরুত্তর রইলাম
যে মানুষটা
যে মানুষটা দেবতা হতে গিয়েছিল
ওই যে ওইখানে, পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
যে মানুষটা শয়তানী শিখতে গিয়েছিল
সে অন্ধকারে পথ হারিয়েছে, হারিয়ে গেছে
যে মানুষটা ভোরবেলায় লাঙল হাতে বেরিয়েছিল
ফিরে এসেছে, একঝুড়ি শস্য মাথায় করে এনেছে
ওই যে বাচ্চাটা দাওয়ায় বসে মুড়ি খাচ্ছে
উঠানে ছড়িয়ে কাকগুলোকে ডাকছে
ও মানুষের বাচ্চা
দেবতারও না, শয়তানেরও না