Skip to main content

বাসন্তীদেবী


     "গাও তো বাবা গোপাল, 'মানুষও হইয়া জনম লভিয়া, মানুষের করিলাম কি'.. কি বুঝলে বাবা? পৃথিবীতে এসে কাজের কাজ কিছু করতে হয় বুঝলে!" বলে তিনি গুনগুন করে গানটা গেয়ে উঠলেন।

ওদিকে

নরহরিবাবু প্রায় তিরিশ বছর হল ইছাপুর থেকে ডেলিপ্যাসেঞ্জারী করছেন।ইদানীং একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। উনি ঠিক ঠাহর করে উঠতে পারছেন না, ঠিক কি হচ্ছে।
     উনি বাড়ি ফেরেন প্রায় রাত আটটার কাছাকাছি। স্টেশানে নেমেই কোনো একজন অপরিচিত মানুষের সাথে উনি কোনো পরিচিত মুখের আদল পান। শুধু তাই না, সেই পরিচিত মানুষের সাথে নরহরিবাবুর দেখা হবেই, সেদিন না হলে পরের দিন তো অবশ্যই।

আলোর গন্ধ

  প্রাণানন্দবাবু রিট্যায়ারের পর পরই পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফিরে ইস্তক ওনার মধ্যে উনি একটা বিশেষ পরিবর্তন খেয়াল করছেন। উনি এখন আলোর গন্ধ পান। প্রথম প্রথম ভাবতেন বুঝি অন্য কিছুর গন্ধের সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। এখন দেখছেন, তা না। সকালবেলা সূর্য্যের আলো জানলা দিয়ে ওনার বিছানায় এসে পড়লেই উনি সারা ঘর শিউলির গন্ধ পান। জ্যোৎস্নারাতে ছাদে বসে থাকতে থাকতে জুঁই-এর গন্ধে বিভোর হয়ে ওঠে ওনার মন। সব গন

সাজের বাক্স

রুপ ছিল না, গুণ ছিল না। চঞ্চলতা ছিল। বাড়ির লোক বলত, "অলুক্ষুণে, এ মেয়ে যে কি করে পার হবে বাবা!" সে হাসত। বন্ধুরা বলত, "ক্ষেপী, এ মেয়ে যে কি করে পাস করবে রে বাবা!" সে ভ্যাঙাত।
...

সহযাত্রী

পল্লব চায়ের ভাঁড়টা চা খাওয়ার পর মাঠের দিকে ছুঁড়ে ফেলে দিল। তারপর বাইকে উঠে ব্যান্ডেলের দিকে রওনা দিল হাইওয়ে ধরে। শীতকালের রাত। পল্লব একটা অফিসের কাজে যাচ্ছে।শরীর সাস্থ্য বেশ হাট্টাকাট্টা। প্রতিদিন জিমে যাওয়া কসরত করা মেদহীন শরীর। বয়স আঠাশের আশে পাশে হবে।
...

প্রতীক্ষা

"কেতু তো পাগল করে দিচ্ছে, বুঝলেন মিত্তির মশায়। এবার পুজোয় ওর সাথে ব্যাঙ্গালোরেই থাকতে হবে। সে শুনবেই না। আচ্ছা বলেন এই বাহাত্তর বছর বয়সে শরীরে এত ধকল সয়। তাছাড়া গিন্নীরও তো যা শরীরের অবস্থা!"
...

অ্যাঁ!

অতনু স্টেশানে নামল যখন তখন রাত ১.২০। যদিও মে মাস, তবু এত রাতে এই মফঃস্বলে রিকশা পাওয়ার প্রশ্নই নেই। সে প্রতি শনিবার করে বাড়ি ফেরে। কলকাতার মেসে থেকে MA পড়ছে। এত রাত হয় না সাধারণত। আজ একটা বন্ধুর দিদির বিয়েবাড়ি সেরে আসতে হয়েছে বলেই শিয়ালদহ থেকে লাস্ট ট্রেনটা ধরতে হয়েছে।
...

পথ

বলাইবাবু টিকিট কাউন্টারে বসে। তা প্রায় ২০ বছর হল। বিভিন্ন স্টেশানের নাম শুনতে শুনতে তাঁর প্রায় সবগুলোই মুখস্থ। প্রতিটা স্টেশানের একটা একটা ছবি আঁকা আছে তাঁর মনে। তিনি যান নি কোথাও যদিও। লোকেদের এই যাওয়া আসাটা দেখতেই তাঁর বেশি ভাল লাগে।
...

খুব ঠিক

"আমি একজন মানুষকে চিনতাম। সে সারা জীবন একটাও ভুল করে নি।"

আলোকাশ্রম

পাড়ায় একেবারে ছি ছি পড়ে গেল।

   "শেষমেশ কি না এই!"
   "তাও কি না সাধুর সাথে!"
   "বলি অমন শান্ত সদাশিব স্বামী থাকতে কি না...! ছি ছি..!"
...
Subscribe to অনুগল্প