Skip to main content

দেখেছি

আমি রাগী মানুষ দেখেছি
আমি কামুক মানুষ দেখেছি
আমি লোভী মানুষ দেখেছি
আমি ঈর্ষাপরায়ন মানুষ দেখেছি
আমি ঠগ মানুষ দেখেছি
আমি শঠ মানুষ দেখেছি
আমি খুনি মানুষ দেখেছি
আমি ধর্ষক মানুষ দেখেছি

আমি এদের সবার চোখেই একটা ভয় দেখেছি
আর সেই ভয়কে আড়াল করে
হিংস্রতার মুখোশ।

গণতন্ত্র

আজ প্রতিদিন না। আজ অন্যদিন। আজ এ বলবে, "খবরদার!" সে বলবে, "তবে রে!"
একজন বলবে, "ওঠো" অন্যজন বলবে, "বসো"। ঘরে থাকলে এ কূলের গোঁসা, বাইরে গেলে সে কূলের! যাই কোথা?

আড়াল

তোমায় বলা কথাগুলোর আড়ালে, আমার না বলা কথাগুলো আছে।
বোঝো তুমি?

সারাদিন দূরে থাকার অভিনয়ে
কাছে থাকতে চাওয়ার কাঙালপনা ধরা পড়ে তোমার চোখে?

তুমি পাশে আসলে আমার বেহায়া মনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিকে ছদ্ম শালীনতায় ঢাকি।
দেখতে পাও?

ছাপ

হাত ছিল ভিজে
দেওয়ালে ছিল কাঁচা রঙ।

ভিজে হাতে লাগল রঙ
কাঁচা রঙে লাগল হাতের ছাপ।

ভিজে হাতে উঠল রঙের দাগ
পাকা রঙে এখনো হাতের ছাপ।

মেয়েটা এখনো সে ভিজে হাতের খোঁজে।

পারি না


আমার ঘুমের আশে পাশে টহল দিচ্ছে
কিছু সশস্ত্র প্রহরী
স্বপ্নগুলোতে কারফিউ জারি।
আমার ভাবনাগুলোর চারপাশে টহল দিচ্ছে কিছু সশস্ত্র প্রহরী
খবরের কাগজে ওদের পায়ের ছাপ।
ভাষার সাথে সত্যের ভুল বোঝাবুঝি-
সত্যগুলো মিয়ানো পাঁপড়ের মত বানাতে চায় ওরা
আমি সেঁক দিয়ে রাখি মননের উত্তাপে
মিয়ানো সত্যে গা গুলায় আমার এখনও।
জল ছিটিয়ে গোলাপ তাজা রাখি না-

অকৃতজ্ঞ

আমায় ধাক্কা দিতে দিতে
            ধাক্কা দিতে দিতে
              খাদের ধারে নিয়ে আসলে।

আমি ঝাঁপ দিলাম না।

বললে, অকৃতজ্ঞ।

অ্যা-পলিটিক্যাল

আচ্ছা আপনাদের কি কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই! আমি বিজ্ঞানী মহাশয়দের বলছি। দু'দিন ধরেই ভয় দেখিয়ে চলেছেন – কলকাতার নীচ দিয়ে এমন একখানা পাত গেছে নাকি যে, তা একবার নড়েচড়ে বসলেই সব হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে। আজ আবার আরেকদল বিজ্ঞানী বলছেন, উঁহু শুধু তা তো নয়!

স্নেহ

কিছু দৃষ্টি ছায়ার মত
রোদে তাপে হঠাৎ ঠান্ডা জলের মত।

বয়স বাড়তে বাড়তে সে ছায়াদৃষ্টি কমে
অনেক গাছ নেই যে আর।

তখন ছায়াহীন মরুভূমিতে সে একা।

তার চোখে তখন ছায়ার দৃষ্টি
কিছু তরুণ, শৈশবের মুখে চেয়ে।

মোহনা

মাত্র দুটো ছবি ছিল মনে
এক, তুমি আসবে
দুই, তুমি থাকবে

দিন গেল
মাস গেল
বছর গেল

আমার মনে দুটো আশা
এক, হয়তো তুমি আসবে
দুই, হয়তো তুমি থাকবে

দিন গেল
মাস গেল
বছর গেল

আমার মনে দুটো ভয়
এক, বোধহয় তুমি আসবে না
দুই, বোধহয় তুমি থাকবে না

দিন গেল
মাস গেল
বছর গেল

মন

মন বাইরের দিকে ছুটেছে। সারাক্ষণ তার বাইরে বাইরে খোঁজ। সে ছুটে মহাকাশকে ছুঁতে চাইছে, সে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে গিয়ে নুড়ি কুড়িয়ে আনতে চাইছে। সে আলোর বেগে ছুটতে চাইছে, মাতাল হাওয়ায় নাচতে চাইছে। সেই ছোটবেলায় একরকমের খেলনা ছিল, একটা যন্ত্রকে পাঁই পাঁই করে ঘুরিয়ে যাওয়া, ওর সাথে একটা দড়ি লাগানো থাকত সেটাও পাঁই পাঁই করে চরকীর মত ঘুরত। আমাদের মনটাও সেরকম। সারাদিন পড়িমড়ি করে ছুটছে। কেন ছুটছে?

Subscribe to