জানতাম চুরি করবেই তুমি
জানতাম চুরি করবেই তুমি
তবু দরজায় খিল দিইনি
সোজা রাস্তা থেকে বাঁকা রাস্তাই
যে পছন্দ তোমার
সেকি বুঝেও বুঝিনি!
আচ্ছন্ন আকাশ
ভোর নয়, ভোর নয়
সন্ধ্যে
স্থির জলে অস্তরবির সাক্ষর
কিছুটা দ্বিধান্বিত
আকাশ ঢাকছে ধোঁয়ায়
আচ্ছন্ন আকাশ
পাখিগুলো অন্যপথে ফিরে গেছে
সকালের মুখ চেয়ে তবু কোনো প্রাণ
এরই মধ্যে সবুজ স্বপ্ন বুনবে
আকাশে হবে স্বচ্ছ
ভোর হবে, ভোর হবে
সন্ধ্যে প্রসন্ন আকাশে নামবে
পথ না পাল্টে
পাখি এ পথেই নীড়ে ফিরবে
(ছবিঃ দেবাশীষ)
সীমানা ছাড়িয়ে
চাইছিলাম আলো
চাইছিলাম আলো জ্বালব ঘরে, এক কোণে। এদিক ওদিক, এদেশ ওদেশ আগুন খুঁজে বেড়ালাম, চাই যে একটু আলো! কোথায় মিলবে ত্রিভুবনে?
সময়
যা মুঠোর মধ্যে ছিল
আশা ছিল তাতে থাকবে
আমার হাতের ছাপ
নেই
কিছুটা মিলিয়েছে সময়
কিছুটা মিলিয়েছে
নতুন হাতের ছাপ
অনর্থক
অনর্থক মাটি খুঁড়ো না
মাটি খুঁড়লেই জল আসে না
জলের জন্য তৃষ্ণা থাকা চাই
অনর্থক ঘর বেঁধো না
দেওয়াল তুললেই ঘর বাঁধা হয় না
ঘরের জন্য ভিত থাকা চাই
অনর্থক স্বপ্ন দেখো না
ঘুমের রাজ্যে সবকিছুই স্বপ্ন হয় না
স্বপ্নের জন্য ঘুম বাজি রাখা চাই
বসন্ত উৎসব
সবুজের বুকে লালের বর্ণমালা
রঙে ভিজে গেল তৃষ্ণার্তদুটো চোখ
তোমার সাধনা দেখার মধ্যে-
অদেখাকে খুঁজে ফেরা
না হয় ছুঁয়েই তোমায়
আমার চোখের নতুন জন্ম হোক
(ছবিঃ সমীরণ নন্দী)
ভাঙা খেলায়
ছলছল চোখ
কিছুটা আগুনের তাপে
কিছুটা আগুনের ধোঁয়ায়
বুক ভাঙা শোক
কিছুটা অপূর্ণ প্রেমে
কিছুটা ভাঙা পাত্রের মায়ায়
এক মুঠো সান্ত্বনা
কিছুটা সামনের মেঠো পথে
কিছুটা ছুঁয়ে আসা বৃত্তের সীমানায়
আচমকা
হঠাৎ করেই কি ছেদ পড়ল?
হ্যাঁচকা টান লাগল বুকের পাঁজরে?
আলোর পর্দা সরিয়ে
অন্ধকার কড়া নেড়ে গেল দরজায়?
এমনি হয়
যে দিকের আকাশে আশঙ্কা করেছিলে সিঁদুরে মেঘ,
সে মেঘ জমে থাকে অন্য আকাশে অলক্ষ্যে
(ছবিঃ সমীরণ নন্দী)
প্রার্থনা
যতগুলো শ্বাস নিলাম বুক ভরে
ফিরিয়ে দিয়েছি কিছু কি তার?
জমিয়ে রাখিনি কি বুকের খাঁচায়
কিছু তার লুকিয়ে এখানে ওখানে?
যতগুলো মুহুর্ত পেলাম
ফিরিয়ে দিয়েছি কি সব তার?
লুকিয়ে রাখিনি কি কিছু তার
বুকের কোঁচড়ে অলস শ্যাওলা জড়িয়ে?