অপেক্ষায়
শিক্ষক দিবস
"এখনকার ছেলেমেয়েরা স্যারেদের আগের দিনের মত সম্মান করে না। আগে হাজার মারধর করো মুখে 'টুঁ' শব্দ করত না। আগেকার দিনে পড়াশোনাও অনেক ভালো ছিল এখনকার থেকে। এখনকার মত এত নোটস মুখস্থ, টিউশান পড়ার ধুম ছিল না। স্যারেরাও স্কুলে খুব ভালো পড়াতেন। ওতেই সব হয়ে যেত।"
তুমি কি চেয়েছিলে?
ওরা বলল, আজ থেকে তুমি সন্ত।
এ দূরের কথা না কাছের?
ভয় করছে আমার
মা ডাকের চেয়ে আপন ডাক কি সন্ত?
তাও কি কখনো হয় রে মা?!
মারের সাগর পাড়ি দেব গো
(এক মাঝির গল্প। এমন মাঝির দেখা সংসারে কদাচিৎ মেলে। যেমন আজ, এমনই এক মাঝি ভূষিত হবেন মানুষের দরবারে সন্ত নামে। কিন্তু সে ভূষণ তো তিনি সেদিনই পেয়েছেন যেদিন সে ডাক শুনেছেন। অবশ্যি ডাক তো শোনে কতজনে সাড়া কি আর সবাই দেয়?)
শসা
রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে। একটা বুড়ি, শসা হাতে নিয়ে সেটাই বসে বসে দেখছে। শতছিন্ন শাড়ি। রোগা বুড়ির গড়ন বেশ শক্তপোক্ত। মিস্ত্রীরা যত বলছে, ও ঠাকুমা সরে বোসো, গায়ে নোংরা লাগবে যে! বুড়ি নির্বিকার। নড়েও না, চড়েও না।
খুব মুশকিল দেখে একজন বুড়ো মিস্ত্রী ওর পাশে গিয়ে বসল। বলল, তোমার কি হয়েছে ঠাকুমা? তুমি সরছ না কেন?
চিল
দরজায় তালা দিয়ে একবার এদিকে এসো। তালাটা টেনে দেখেছো তো? ঠিক আটকানো তো?
ঠাকুরঘরের জানলাটা দেখেছো? ভালো করে ছিটকিনি দিয়েছো?
ছাদের দরজা? পিছনের দরজা?....
ঘুমের ওষুধটা দাও এবার। কাল রাতেও এটা খেয়ে ঘুম আসেনি। বরং দুটো দাও বা তিনটে।
হ্যাঁ গো, রাত কটা এখন? আড়াইটে। একবার মেয়েটার ঘরে যাও না। দেখো তো সব ঠিক আছে কি না?
আসিস না
বরং এ বছর পূজোগুলো বন্ধ থাক
মাটিগুলো মাটি হয়েই থাক
এক নারীমূর্তি বানিয়ে কি লাভ?
আরো যা যা লাগে, খড়, কাঠ, বিচুলি
সে সবও না হয় যে যার জায়গায় থাক
বাঁশগুলো তুলে ফেলেছিলে?
প্যান্ডেল হবে না এবার,
নামিয়ে ফেলো,
তিরপলগুলোও গুদামঘরেই থাক
উনি
১
----
পাশের বাড়ীর মেয়েটা গলায় দড়ি দিল
উনি সেদিন থেকে বাড়িতে দড়ি রাখেন না।
তার পাশের বাড়ির মেয়েটা গায়ে আগুন দিল।
সেদিন থেকে উনি বাড়িতে দেশলাই রাখেন না।
এইভাবে উনি বাড়িতে-
ব্লেড, ফিনাইল, এসিড, পাখা, ইঁদুর মারার বিষ - কিছু রাখেন না।
কতখানি নিরাপদ
খুব অন্ধকার রে চারদিক আজ
তপসিয়া খাল, ওলা ক্যাব, দুজন নরখাদক
আর একটা ইনারের মত চেনা শব্দ - ধর্ষণ
এরা মিলে তোকে চেনালো।
দমবন্ধ, গুমোট আবহাওয়া
একটা কালবৈশাখী চাইছি রে,
বড় আবর্জনা জমেছে চারদিকে
বড্ড রুগ্ণ মনগুলো,
মেরুদন্ডহীন পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
যে এসেছিল
যে এসেছিল, সে শুধুই লজেন্সের জন্যে এসেছিল, খোসাটার জন্য না। খোসাটার বোঝার ভুল ছিল। লজেন্সটাকে বার করে ওকে যখন দুটো আঙুলের একটা টোকায় রাস্তায় ফেলে দিল - ও এমন হতভম্ব হয়ে তাকিয়েছিল সবার মুখে দিকে! যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না। দেখলাম ডাস্টবিনে মুখ গুঁজে পড়ে আছে। অভিমানে পাথর।