Skip to main content

আধা এবং আধা

মানুষটা একটা ডোবার ধরে থাকত। ডোবার জলে নাইত। তার মাথায় ছিল দিগন্তলীন অসীম এক সমুদ্র স্বপ্ন।
মানুষটা কুঁড়ে ঘরে থাকত। কুঁড়ে ঘরেই ঘুমাতো। বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্মের সাথে কুঁড়ে ঘরে একা একাই কাটত। তার মাথায় ছিল জন-অরণ্যের একটি প্রান্তে মানুষে ঘেরা ঘর বাঁধার স্বপ্ন।
মানুষটা সিদ্ধভাত একা একাই দুপুরে-রাতে খেত। ডোবার জলেই আঁচাতো। তার মাথায় ছিল এক বিরাট দাওয়তের স্বপ্ন। অযুত নিযুত মানুষ বসেছে খেতে, কোলাহলে সে ছুটে ফিরছে এদিক ওদিক সেদিক - চৌদিকে তার আনন্দ আনন্দ আনন্দ।

মানুষেই ঘুরে এলাম

এইমাত্র আমি বাজার থেকে এলাম। জীবন্ত মানুষের ভিড়, প্রতিদিন যেমন হয়। তবে আজ বিশেষভাবে দেখলাম। চোখ দিয়ে, মনের সবকটা হাত দিয়ে স্পর্শ করে এলাম। এইমাত্র আমি বাজার ঘুরে এলাম। শ্মশান নয়, কবরস্থানও নয়, বাজার ঘুরে এলাম। মানুষ মানে বাচ্চাও। রঙীন কাপড়ে ঢাকা সুপ্ত শরীরের কুঁড়িতে আলতো পাপড়ি মন। এইমাত্র আমি বাজার ঘুরে এলাম। শ্মশানে না, না তো কবরস্থান দেখে এলাম। রঙীন চকোলেটের খোসা বাজারের রাস্তায় ধুলোর সাথে মি

যেন একটা রেসের মাঠ

যেন একটা রেসের মাঠ। সব ধর্মপ্রণেতা পুরুষেরা ঘোড়াগুলোর জায়গায় দাঁড়িয়ে। গ্যালারীতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক। কত রঙের পোশাক। সাদা, গেরুয়া, কালো, নীল, লাল। সব্বাই চীৎকার করছে - আরো জোরে...আরো জোরে...আমরা এগিয়ে...আসল ঈশ্বর আমাদের...ওদের নকল...জোরে... জোরে...জোরে....

শুধু যেন শেষ অবধি পৌঁছানোর অপেক্ষা...

জাগরণ


অভিমানী মানুষটা গাছটাকে জড়িয়ে ধরে বলল, আমি কই?
গাছ বলল, এই তো তুমি।
মানুষটা বলল, এই আমি না, এত বড় সংসারে এত কিছু ঘটে চলেছে, সেখানেই আমি কই?
গাছ বলল, তুমি কি চাও?
মানুষটা বলল, সবাই আমাকে চিনুক, নইলে আমি গলায় দড়ি দেব তোমার ডালে, নইলে তোমার বিষফল খাব।
একটা সাপ গাছের গুঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠছিল, সে থেমে গিয়ে লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, বিষ চাই? মরবে?

নির্বাসিত প্রেম

নির্বাসিত প্রেম। সংসারের বাইরে সংসার। রাধার যেন আসতেই হত। সে যদি বলত, কৃষ্ণ, তুমি তোমার গৌর-নিতাই নিয়ে এগোও। বিশ্বে ধর্মপ্রচার করো, জগৎ উদ্ধার করো। আমার সেখানে কি কাজ বলো?

কুলটা

ফুলগাছটা কেনার সময় খেয়াল করেনি, ফুলটার রঙ, পাপড়ির বাহার শুধু চোখে পড়েছিল, কাঁটাগুলো খেয়াল করল বাড়িতে আনার পর।

অনুকম্পা

আমার সারা গায়ে চন্দনের গন্ধ।
গলায় তুলসীমালা। ঈশ্বরের জন্য সেজেছি।
গোপালের জন্য পাত্রভরা মাখন - নৈবেদ্য।

শূন্য আনন্দ ভালোবাসা

ভালোবাসার গায়ে একটা রঙীন চাদর জড়ানো থাকে। সেই চাদরটা হয় ঝড়ে উড়ে যায়, নয় পোকায় কাটে, কখনও বা আগুন লাগে।

সীমা

কোনো এক মুহূর্তে মানুষটা বুঝতে পারল, যে সমুদ্রটা দেখবে বলে সে এতটা পথ অক্লান্ত পাড়ি দিল, সে সমুদ্রেরও একটা সীমা আছে। 

মৃত্যু তোমায় বলছি

টিলাটার উপর কবে উঠেছিলাম মনে নেই। তবে তোমায় আরো কাছ থেকে দেখব বলে উঠেছিলাম এতদূর মনে আছে। এই নির্জনে নিজেকে নির্বাসিত করে রেখেছিলাম শুধু তোমায় আরো কাছ থেকে জানব বলে। হ্যাঁ মৃত্যু তোমাকেই বলছি।
...
Subscribe to গদ্য কবিতা