Skip to main content


অভিমানী মানুষটা গাছটাকে জড়িয়ে ধরে বলল, আমি কই?
গাছ বলল, এই তো তুমি।
মানুষটা বলল, এই আমি না, এত বড় সংসারে এত কিছু ঘটে চলেছে, সেখানেই আমি কই?
গাছ বলল, তুমি কি চাও?
মানুষটা বলল, সবাই আমাকে চিনুক, নইলে আমি গলায় দড়ি দেব তোমার ডালে, নইলে তোমার বিষফল খাব।
একটা সাপ গাছের গুঁড়ি বেয়ে উপরের দিকে উঠছিল, সে থেমে গিয়ে লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, বিষ চাই? মরবে?

মানুষটা চুপ করে রইল।
সাপটা ফণা তুলে ক্রমশঃ তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।
মানুষটার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল, জিভ শুকিয়ে আসতে লাগল, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যেতে লাগল।

হঠাৎ একবিন্দু জল তার মুখের উপর পড়ল।
মানুষটা উপরের দিকে তাকালো, ঘন কালো মেঘ আকাশ জুড়ে।
মেঘ বলল, বিদ্যুৎ এর এক স্পর্শে জীবন শেষ হয়ে যাবে তোমার, নেবে?
মানুষটা জ্ঞান হারালো।
সাপ, বিদ্যুৎ, গাছ - সব হারিয়ে গেল তার চোখের সামনে থেকে। এখন শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার।

সেই অন্ধকারে তার মনের ভিতর থেকে সে কার কণ্ঠস্বর পেলো। কে যেন ডাকছে তাকে।
ঘন অন্ধকারের মধ্যে উঠে দাঁড়ালো। ধীর পায়ে নিজের ভিতরে ঢুকতে শুরু করল।
ঘন জঙ্গল, সমুদ্র গর্জন, ধূধূ মরুভূমি পেরিয়ে এগোতে লাগল। যত এগোয় তত সে কণ্ঠস্বর কাছে আসতে থাকে তার।

হঠাৎ শুরু হল তুষারঝড়। সে আর যেন চলতে পারে না। কোনোরকমে নিজের শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে এগোতে লাগল। এগোতে তো না, উঠতে লাগল। উঠতে উঠতে ঝড় থামল। যেখানে এসে থামল সে এক পাহাড়ের চূড়া। এত উপরে, অথচ সব কিছু সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। ওই তো গাছটা, ওই তো সেই সাপটা, ওই যে মেঘের দল আর তার তূণে ভরা বিদ্যুৎ বাণ।
মানুষটা আনন্দে লাফিয়ে উঠল। গলা ছেড়ে গান গাইল। চারদিক তাকিয়ে তার আনন্দ যেন ধরে না, সবাই যেন তার আত্মীয়। এমনকি বিষ, বিদ্যুৎ ওরাও।

কিন্তু তাকে ডেকেছিল কে?
যেই মানুষটা পিছনে তাকালো, অমনি তার জ্ঞান এলো ফিরে।
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখল সে গাছের গোড়ায় শুয়ে। মাটি ভিজে। সোঁদা গন্ধে ম ম করছে চারদিকে।

মানুষটা মাটির উপর উপুড় হয়ে শুয়ে মাটিতে চুমু খেলো। বলল, আমি তুমি, তুমিই আমি।
গাছকে চুমু খেলো, বলল, আমি তুমি এক। মেঘকে বলল, বন্ধু। সাপকে বলল, ভাই। বিষকে বলল, প্রেম। বিদ্যুৎকে বলল, আনন্দ।