Skip to main content

প্রতিচ্ছবি

ছেলেটা চুপ করে রাস্তার একটা ধারে দাঁড়িয়েছিল। সে দূরে দেখছে একটা বুড়ি গাছের তলায় বসে ঝিমোচ্ছে। ছেলেটা ডানদিক বাঁদিক একবার দেখল, তারপর ছুটে গিয়ে বুড়িটাকে একটা লাথি মারলো। বুড়িটা হুড়মুড় করে রাস্তার ধারে গড়িয়ে পড়ল।
...

আবীর

নীল জামাটার দিকে দু'বার তাকিয়ে দেখল। ভাল্লাগে না। এই জামাটা পরে কেউ রঙ খেলতে যায়? কেন তার আর নতুন কোনো জামা নেই? লোকে বলবে না, বাবাটা অত ভালো চাকরী করে অথচ দেখো ছেলেটা সেই গত বছরের জামা পরেই খেলতে এসেছে।
...

সেলুন

কোলে চুলগুলো কেটে কেটে পড়ছে। সাদা চাদরে চুলের থোকা। তারা তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলছে - কোলে নাও। 
        চশমা পরা নেই, তাই চুলগুলোর মুখ দেখতে পাচ্ছেন না। সেলুনের ছেলেটা প্রতিবারই চশমাটা খুলে নেয়। চশমা খুললে আর চোখে দেখতে পান না। আওয়াজ শুনতে পান।
...

হরিনাভী

হরিনাভীর ভীষণ ক্ষোভ। না বউটা পোষ মানল, না কুকুরটা। তেমন দজ্জাল শাশুড়ির পাল্লায় তো পড়েনি! গ্রাম থেকে আনা হল, শালা! কপালে না থাকলে যা হয়। আর স্বামীসুখই বা কি পেলেন? তিনি তো সারাটা জীবন দেশোদ্ধারের কাজেই জীবন দিলেন। পার্টি আর পার্টি। জ্বালিয়ে খেলে গা!
...

হারিয়ে গিয়ে

যেমন তেমন নয়, আস্ত একটা সূয্যি গিলে দিনটা দিল চম্পট। অমনি তিরপল ফেলে হুস্ করে হল অন্ধকার। কেউ কোত্থাও নেই। ইয়াব্বড় আম বাগান। ইদিকে গাছ, উদিকে গাছ। বোলের ম ম গন্ধ। কোন দিকে যাই? ঝাপসা রাস্তা দেখা যাচ্ছে এঁকে বেঁকে। মাটির রাস্তা। হঠাৎ আওয়াজ - কেঁউ... কেঁউ... বাচ্চা কুকুর। পিছু নিয়েছে। ঘুটঘুইট্টা অন্ধকার বাড়ছে। ওডা কে?
...

চম্পা

"মরা একটা মাছেরও দাম আছে, আমাদের কি দাম বল? মরলে সবাই বলবে শ্মশানে নিয়ে যাও"
        এক নিঃশ্বাসে এতটা বলে দম নিল চম্পা। তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। অন্ধকারটা ভালোই লাগে চম্পার। চাদরটা বুকের উপর টেনে নিয়ে বলল, "বাবু একটু জানলাটা খুলে দে তো, টুনটুনিটা ডাকছে।"
...

সুটকেশ

অনেক রাতে ট্রেন। প্রদ্যুত যখন হাওড়া স্টেশানে এলো তখন পৌনে এগারোটা। এখনও এক ঘন্টা বাকি। প্রদ্যুত বিশাখাপত্তনম যাবে। অফিসের কাজ। এসি ২ -তে লোয়ার বার্থ। প্রদ্যুত ডিনার সাথেই এনেছিল। স্টেশানেই খেয়ে নিল। ট্রেন দেয়নি এখনও প্ল্যাটফর্মে। মোবাইলটা অন্ করে ওটাস অ্যাপটা অন্ করতেই বোর্ডে চেন্নাই মেলের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে দিল।
...

খুরশিদ

বিশাল বড় ন্যাড়া গাছটার ডালে একটা ঘুড়ি আটকিয়ে। গাছটার থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে যে বস্তিটা, চার বছর আগে জন্মেছিল যে হামিদের ছেলে, সে হাফপ্যান্ট পরে দিনে কতবার যে ঘুড়িটা দেখতে আসে!
...

বডি

বাজারটা থমথম করছে এখনও। পুলিশ এখনও বডি নিতে আসেনি। ছেলেটাকে এদিকে কেউ আগে দেখেছে বলেও চিনতে পারছে না। কিন্তু এরকম দিন দুপুরে খুন এই তল্লাটে আগে কবে হয়েছে মনে করতে পারছেন না বিশ্বনাথ দাস। বাজারের ব্যাগটা হাতে নিয়ে, ভুরু কুঁচকিয়ে পরেশের চায়ের দোকানে বসে আছেন।
...

সুবর্ণ

ছেলেটা মেয়েজাতটাকে ভালোবাসতে পারতো না, তাই শ্রদ্ধা করত প্রাণের সমস্ত শক্তি দিয়ে। কারণ যাকেই না শ্রদ্ধা করি তা-ই বিরুদ্ধ শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েজাতের মত এত বড় একটা শক্তিকে বিরুদ্ধসত্তা বানিয়ে লড়তে চাইলে মনের শান্তি বিঘ্নিত হয়। তাই সুবর্ণ মেয়েদের শ্রদ্ধা করত। সে নিজেও কারণটা স্পষ্ট বুঝত না যদিও। কিন্তু সে খেয়াল করত মেয়েদের নারীরূপটা সে মেনে নিতে পারে না। সেটা যেন পাশ্চাত্য সভ্যতার একটা বিকাররূপ তার কাছে। মেয়ে মানে মা। মেয়ে মানে একটা আশ্রয়। এমনকি ভারতীয় মেয়েদের পর্ণও দেখলে অসহ্য লাগত সুবর্ণ'র। ওরকম হয় না ভারতীয় মেয়েরা।
Subscribe to অনুগল্প