Skip to main content

 

আশেপাশে কত তো বাড়ি। কুকুরটা জানে, কোন বাড়িতে যেতে হবে। এ বাড়ি, সে বাড়ি পাশ কাটিয়ে পৌঁছে গেল। বসে থাকল। জানে, পেট পুরো না ভরলেও শূন্য থাকবে না।

দরজা খুলল। বাটি হাতে ভাত আর কয়েকটা মাছের কাঁটা নিয়ে একজন বৃদ্ধ বেরোলো। কুকুরটা উঠে দাঁড়িয়ে, ঘাড়টা শক্ত করে মাথাটা উঁচিয়ে, লেজ দুলাতে লাগল।

বৃদ্ধ উবু বয়ে বসে রাস্তার ধারে বাটিটা উপুড় করে দিল। কুকুরটা গোগ্রাসে খেতে শুরু করল। তার খাওয়াটা দেখলেই বৃদ্ধের দেশভাগের সময়ের কথা মনে পড়ে। মায়ের সঙ্গে এ দেশে এসেছিল। একবাটি মুড়ি দিয়েছিল একবাড়ি থেকে। মা কয়েক খাবলা গোগ্রাসে গিলে, হঠাৎ তার দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেয়েছিল। কুকুরটার খাওয়াটা দেখলে তার মায়ের কথা মনে পড়ে। চিনচিনে কষ্ট হয়। বাদামের মধ্যের চেরাদাগের মত, ফাটল আছে, তবু জুড়ে আছে।

বৃদ্ধ উঠে ঘরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল। এঁটো তুলতে হবে। শোয়ার ঘর থেকে এক বৃদ্ধার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো.....বাবু খেয়েছে? আজকাল কেন যেন আসে না এদিকে......না....এই তো তিনদিন হল এসেছিল...কী রোগা হয়েছে গো....

বৃদ্ধ এঁটো তুলতে তুলতে "হ্যাঁ হ্যাঁ" বলে যাচ্ছে। ছেলেটা তো নেই। রাজনীতি করত। কারা ডেকে নিয়ে গেল সন্ধ্যেবেলা। ঘরে শুয়েছিল। জ্বর। আর এল না। কদিন পর দেহ পাওয়া গেল। ডোবার মধ্যে। মাথাটা নেই। মাথাও পাওয়া গেল, সাতদিন পর। সেই থেকে ওর মা.....

ও কি ঘুমিয়েছে?

বৃদ্ধ জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল। কুকুরটা ঘুমাচ্ছে দুর্গামণ্ডপে।

বৃদ্ধ বলল, হ্যাঁ গো....তুমি শোও এবার।