Skip to main content

তো কথা হচ্ছে স্নানের পর পূর্ব পরিহিত বস্ত্রাদি কাচিবার নিমিত্ত সলিলস্থ করাই বিধেয়। মানে হল গিয়ে বাসি পোশাকগুলো সাবান জলে চুবিয়ে কেচে নেওয়াই ভদ্র মানুষের কাজ। আর অকৃতদার হলে প্রধান কর্তব্য বটেই।

      গোলমাল হল কয়েকটা শব্দ নিয়ে। সংশয় - বিভ্রান্তি ও দ্বন্দ্ব। এই শব্দগুলোর যোগসাজশ ভাবতে ভাবতে নাবার ঘরে ঢুকেছি। ভাবতে ভাবতে নাইছি, আবার নাইতে নাইতে ভাবছি। সংশয় থেকে বিভ্রান্তি কতটা দূরে অবস্থিত। আর দ্বন্দ্বের গোত্রই বা কি। এর মধ্যে আবার 'আবদার' এর কোনো যোগ্য ইংরাজি পাচ্ছি না, যদিও সেটা গৌণ সমস্যা। তবু মূল সমস্যার সাথে গৌণ সমস্যা তো থাকেই কিছু। তার মধ্যে কে কাকে করোনা হলে জড়িয়ে ধরবে বলেছে, সে নিয়েও মনের মধ্যে একটা রাগ রাগ ব্যপার। বলি বাংলাটা কি মগের মুলুক নাকি যে যা পাবে বলে যাবে! আর আমরা সেই সব শুনে আবার কে কত গাঁজা খেল সেই হিসাব শুনতে টিভির সামনে বসব?

      তো একটা মানুষের তো মাথা। তার সাথে কিছু সাংসারিক, প্রতিবেশিক সমস্যা কার না জীবনে আছে। আমারও আছে। সেই সব ভাবতে ভাবতে নাওয়া হল। বাসি পোশাকাদি জলে চুবিয়ে সার্ফ দিতে যাব, গন্ধটা কেমন যেন অচেনা অচেনা ঠেকল। নাকের সাথে মন ভুরু কুঁচকিয়ে বলল, আহা যেন বিশ্বের সব সাবানের গন্ধ চিনে বসে আছ। হবে কোনো নতুন কোম্পানির গুঁড়োসাবান। কিন্তু স্মৃতি বলল, না গো না, এ গন্ধ আমার চেনা। কিন্তু স্মৃতির কথা তখন কে কানে নেয়? তত্ত্বালোচনা তুমুল গতিতে চলছে, মাথার মধ্যে যেন এথেন্সে সভা।

      তো নাইবার ঘর থেকে যখন বাইরে এলুম, তড়াক করে আমার স্মৃতি উপযুক্ত শব্দটি খুঁজে পেল, আরে ও তো সাবান নয়, ব্লিচিং!! কিন্তু ততক্ষণে যা হবার হয়ে গেছে! সব কিছু দফারফা।

      অমনি আমার এক শুভানুধ্যায়ী বন্ধুর কথা মনে পড়ল, সে বলে, সারাদিন ওসব আগডুম বাগডুম ভাবলে অমনই হয়। তাই কি সুকুমার বলেছিলেন জগতে সবচাইতে উৎকৃষ্ট পদার্থ হল পাঁউরুটি আর ঝোলাগুড়। সে হতে পারে। আমার আরেক বন্ধু আছে, সে জ্বর-পেটখারাপ-অম্বল-করোনা-টাইফয়েড-ওলাওঠা-পিত্তিবমি-ডেঙ্গি যাই হোক না কেন পাঁউরুটি ছাড়া বাঁচবে না। ধরা যাক কোনো কারণে তাকে যদি কেউ কোনো অবস্থায় জিজ্ঞাসা করে, আপনার শেষ ইচ্ছা কি? সে গিলেটিনে মাথা গলিয়েও বলবে, অবশ্যই সাদা পাঁউরুটির গায়ে একটা কামড়। মানে সুকুমার রায় একদম মিছে কথা লিখতেন তা কিন্তু নয়!

      তত্ত্ব আলোচনা রইল পড়ে। ব্লিচিংকে সাবান ভাবা কি বিভ্রান্তি না সংশয়। এখন এই নিয়ে ভারি দ্বন্দ্ব মনে।