Skip to main content

 

মন্দিরে রোজ আসে। ভিক্ষা করতে। সারা সন্ধ্যে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্ধ সে।

প্রতিদিন শোনে নূপুরের আওয়াজ। সন্ধ্যের শেষ লগ্নে আসে। মন্দিরে যায়। আসে দশ মিনিট পর। কোনোদিন তাকে কিছু দেয়। কোনোদিন দেয় না।

তার এই নূপুরের আওয়াজটা শুনতে ভালো লাগে। মনে হয় যেন গত জন্ম থেকে এ আওয়াজ সে চেনে। তার নাম ধরে যেন ডাকে। তার আপন প্রাণের আপন ধন।

সেদিন কালবৈশাখীর ঝড় উঠল সন্ধ্যেবেলা। ধুলোয় ধুলোয় চারদিক। সে তবু এসে দাঁড়িয়েছে। তাকে তো দাঁড়াতেই হবে। ভিক্ষাপাত্র ভরবে না আজ। কিন্তু যদি সে আসে?

সে এলো। অনেক রাতে। নূপুরের ধ্বনি মিলিয়ে গেল মন্দিরের গর্ভে। এমন সময় নামল বৃষ্টি। আকাশ ভাঙা বৃষ্টি যেন। ফিরে যেতে হয়। কিন্তু সে ধ্বনি ফেরেনি যে এখনও।

ভিজতে ভিজতে শুনল, সে নামছে সিঁড়ি বেয়ে। নূপুরের ধ্বনি স্পষ্ট থেকে স্পষ্ট হল তার কাছে এসে। তার হাতটা ধরে সে বলল, বৃষ্টিতে ভিজছ কেন…. এদিকে এসো…. এদিকে ছাদ আছে।

সে ছুঁয়ে গেল। আশ্রয়ে দাঁড় করিয়ে গেল। ভিক্ষাও দিয়ে গেল। বৃষ্টির জল আসছে না এখানে। কিন্তু বৃষ্টির শব্দ আসছে দুই কান ছাপিয়ে। নূপুরের আওয়াজ গেল মিলিয়ে বৃষ্টিতে। সে ফিরে গেল। কী যেন নিয়ে গেল। শূন্যতা দিয়ে গেল তাকে এক যুগ।

পরেরদিন সে আর ভিক্ষাপাত্র নিয়ে এলো না। কী যেন ভেঙে গেছে। কী যেন হারিয়ে গেছে। কী হত যদি বৃষ্টিতেই দাঁড়িয়ে থাকত? যদি ভিজতে ভিজতেই শুনত তার ফিরে যাওয়া? কী হত এ করুণা স্পর্শ যদি না পেত?

আর কোনোদিন আসেনি সে। নূপুর বেজেছে। কিন্তু কেউ কান পেতে থাকেনি আর। নূপুর জানল না সে কথা। কোনোদিনই না।