তোর ভীষণ জেদ। দুটো চড় মারার পর, পাঁপড়টা গরম তেল থেকে তুলে, বাচ্চাটার মা, খবরের কাগজের উপর রাখল। বাচ্চাটা চোখ টলটল জল নিয়ে নাগরদোলার দিকে তাকিয়ে। পাঁপড়ের দাম নিয়ে, খদ্দেরদের পাঁপড় দিতে দিতে, গজগজ করতে করতে বলল, এই গরম খুন্তি দেব জিভে ঠেসে…জন্মের মত আইসক্রিম খাওয়া ঘুচে যাবে। বাচ্চাটা মায়ের দিকে না তাকিয়ে রিং এর মধ্যে লাফানো বাচ্চাগুলোকে দেখছে। মা বলল, বাড়িতে রাতে ভাতগুলো কে গিলবে? মেয়েটা বলল, ওই দেখো…. অবন্তিকা…. ডাকব? মা তাকালো। বাবা মায়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছে। তাদের পাড়ায় থাকে। তার মেয়েরই বয়সী। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। মা বলল, চুপ করে বস…. ভিক্ষা চাইবি ওদের কাছে? এত নোলা তোর? মেয়েটা তাকালো মায়ের দিকে। রাগে মুখ থমথমে। বলল, কেন, আমি কি ভিখারি? বাবা কাজে যায় না? তুমি যাও না? মা গরম তেল সামলে পাঁপড় তেলে ছাড়তে ছাড়তে বলল, কদিন আগেই জ্বর থেকে উঠলি….আবার আইসক্রিম চাইছিস… এত অবাধ্য হলে হয়। মেয়েটা ফ্রকটা পায়ের তলায় গুটিয়ে আরো জড়সড় হয়ে মাকে বলল, ফেরার সময় তবে বেলুন কিনব… ওই যে উড়ছে….ওরকম। মা বলল, আচ্ছা। মেয়েটা অবন্তিকার ফ্রকের দিকে তাকিয়ে। ওরা মিলিয়ে যাক ভিড়ে। মিলিয়ে যাক।