ট্রেন থেকে নেমে হোটেল। ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট। তারপর বীচ। সমুদ্রস্নান। দুপুরে হোটেলে এসে ঘুম। বিকেলে বীচে কিছুক্ষণ। বসে, দাঁড়িয়ে, হেঁটে। সন্ধ্যে নামলে রাস্তায়। চা। হালকা খাবার। রাতে হোটেলে ফিরে ডিনার। আবার বীচে। তারপর হোটেলে ফিরে ঘুম।
ফিরে ট্রেন থেকে অফিস। রাতে বাড়ি। পরেরদিন অফিস। রবিবার ছুটি। বেলায় ঘুম থেকে ওঠা। চা। ঘুম। স্নান। খাওয়া। ঘুম। বিকেলে চা। সন্ধ্যেতে সিনেমা। OTT। রাতের খাওয়া। ঘুম। সোমবার।
ট্রেন। গাড়ি। পাহাড়ে ওঠা। উঠতে উঠতে ঘুম। হোটেল ফ্রেশ হওয়া। খাওয়ার পর ঘুম। ম্যালে হাঁটা। বসে বসে তাকিয়ে থাকা। অন্যমনস্ক। দুপুরের পাহাড়, বিকেলের পাহাড়, রাতের পাহাড় দেখা। অল্প অল্প খাওয়া। চা। কফি। হোটেলে ফেরা। খাওয়া। ঘুম।
স্মার্টফোন বলছে জীবন চলছে। সোশ্যালমিডিয়া প্রমাণ সে বেঁচে আছে। সুখে আছে। ফোন চার্জে লাগিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে। নিঃস্বতার একটা ঝিমুনি আছে। ঝিমাতে ঝিমাতে তলিয়ে যাওয়া আছে। তলিয়ে যেতে যেতে ঠেকে যাওয়া আছে। মদ বারণ। লিভার মৃত্যুর আমন্ত্রণ লিপি নিয়ে। অপেক্ষায়।
উৎসব। দুর্গাপুজো। ছুটি। ঘুমের পর ঘুম। মন খারাপ নেই। মন পাঁজরে আটকানো ফ্রেম। ছবির পর ছবি। অতীত। বার্তা নেই। বেদনা নেই। ভালোবাসা?
কোমরের নীচে অবশিষ্ট ভালোবাসা। বুকের মধ্যে ছেঁড়া বালিশের তুলো বেরোনো কুৎসিত কিছু ভালোবাসা। মাথার মধ্যে নিরুদ্দেশ ভালোবাসার ছবি, গন্ধ, ক্লিপ, একপাটি চটি। তবু ভালোবাসা আছে ফুরিয়ে যাওয়া কফির পাত্রে লেগে থাকা কফির গন্ধের মত। ওতেও উত্তেজনা আসে - মাথায়, বুকে, কোমরের নীচে। অবশিষ্ট জীবন।
তবু উৎসব। উৎসব এক দৈত্য। সুসজ্জিত দৈত্য। মহা আকাঙ্ক্ষিত দৈত্য। দৈত্য কানে কানে ফিসফিস করে কথা বলে। বলেই যায়। বলেই যায়। যতক্ষণ না সবাই রাস্তায় নামে। দৈত্যের সহচর হয়। দৈত্যের গর্জন এড়িয়ে ঘুম আসে। ক্লান্তি আসে। ক্লান্তির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, হেমন্ত, মান্না, লতা, আশা, কিশোর। অতীত বৃদ্ধ পুরোহিতের মত শান্তির জল নিয়ে হাজির হয় মাঝে মাঝে। ছিটিয়ে দিয়ে বলে, যাও। তারপর ন্যাশনাল হাইওয়ের নির্জনতা। যেদিকে যাও, কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। শুধু চলে যাও।
এক জীবনে কত জীবনের স্বরলিপি থাকে? সব কি সুর থেকে স্বরে আসে? সব মুকুল কি ফল হতে পারে? নিষ্ফল মুকুলে কি কোনো সত্য নেই? ব্যর্থতার মধ্যে কি কোনো চিরন্তন সত্য নেই? শূন্যতারও কি ভাষা, ছন্দ, ছবি নেই?
ক্লান্ত মানুষ একটা গুহার নির্জনতা খোঁজে। তার নিজের হাতে বানানো যা কিছু সব ছেড়ে গেছে।
ধর্ম। ঈশ্বর। কাব্য। মহাকাব্য। উপন্যাস। রাজনীতি। খেলা। শিক্ষা। দর্শন।
গুহার নির্জনতায় কোকিলের ডাক ভেসে আসছে। ডাক যেন পর্দা। কেউ কি আছে পর্দার আড়ালে? মানুষের কোনো ক্লোন? অতিমানব, না মহামানব সে?