বুধবার। কাল বৃহস্পতিবার। লক্ষ্মীবার। প্লাস্টিকের প্যাকেটে গাঁদার মালা, গাঁদাফুল আর একটা আমসরা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছে। সারাটা দিনের পর ক্লান্তি লাগে না। সুখ লাগে। একটা অমলিন বেঁচে থাকার সুখ।
গায়ের সোয়েটারটার রঙ কালো। অন্ধকার রাস্তায় একবার মিশে যাচ্ছে তাকে নিয়ে, আবার টিউবলাইটের আলোয় জ্বলজ্বল করে উঠছে। আলো আঁধার পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখন মাঠের মাঝখানে এলো, তখন পূর্ণিমাগত টোপলা খাওয়া চাঁদ উঠেছে পুবাকাশে। নারকেল গাছের ফাঁক থেকে তার দিকে তাকিয়ে বলছে, বাড়ি চললি?
তার নাকের উপর ঠাণ্ডা হাওয়া লাগছে। চোখের উপর ভেজা শিশির। হাতে লক্ষ্মীর ফুল। তার মনে হল হাঁটতে হাঁটতে একদিন সে এ সব ছাড়িয়ে যাবে। যেন কবে থেকে এইভাবে হেঁটে যাচ্ছে সে। আকাশ, তারা, চাঁদ, মাঠ, সব তার সঙ্গে হাঁটছে। তাকে ভরিয়ে দিচ্ছে রোজ। তার ক্ষতকে প্রলেপ দিচ্ছে সান্ত্বনায়। সব কত চেনা। কত কাছের। আবার যেন কত দূরের।
ফোনটা বেজে উঠল। সে ফোনটা তুলে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ কাল আসব….ও ছুটি করেছে?... আচ্ছা, আমি দেখে নেব।
পরেরদিন সকালে ভিড়ের মধ্যে মিশে সে দাঁড়িয়ে আছে। স্টেশানে। রোজই দাঁড়ায়। এই সময়ে সুখ, চাঁদ, তারা, আকাশ, মাঠ, ধানক্ষেত সবাই তাকে দেখে অবাক হয়। বলে কে তুমি? কে? কার সঙ্গে যেন তোমার মুখের মিল। কিন্তু সে তো তুমি নও!
সে পরিচয় দেয় না। হাসে মনে মনে। মনে মনেই বলে, রাতে চিনবে, যখন ফিরব। এখন যেতে দাও। আসি।