বাস স্ট্যান্ডে যে মহিলা এসে দাঁড়ালেন, তিনি দলিত। কাজ শেষ করে ফিরতে রাত হচ্ছে।
যে মালিকের কাজ করে, তার বিরাট ক্ষেত। মালিকের ঘর ক্ষেতের মাঝখানে। মালিক ডাকে যখন তখন। মালিক পাশে বসতে বলে। ইনস্টাগ্রাম চালায়। সেখানে মেয়েরা তাদের প্যাড পরিবর্তন দেখায়। সেখানে মেয়েরা শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গ, নিম্নাঙ্গ অনাবৃত করে দেখায়। মালিক পিঠে হাত দেয়। বুকে হাত বুলায়। থাই ছুঁয়ে যৌনাঙ্গে আঙুল নিয়ে খেলতে খেলতে বলে, তুই এরকম করতে পারিস তো? একজন মহিলা উপুড় হয়ে শুয়ে ইনস্টাগ্রামে, জিজ্ঞাসা করে তুমি কী রঙের জাঙ্গিয়া পরেছ আজ? তোমার ওটা এখন কেমন আছে? শুয়ে না দাঁড়িয়ে? মালিক বলতে বলতে তার হাতটা নিয়ে তার পুরুষাঙ্গ ছোঁয়ায়, জিজ্ঞাসা করে, তোর জানতে ইচ্ছা করে না আমি কী রঙের জাঙ্গিয়া পরে আছি? এই দেখ, আরও দেখ। মালিক দেখায়, একজন মহিলা উন্মুক্ত স্তন মোবাইলের সামনে রেখে শিশুকে খাওয়াচ্ছে। মালিক বলে তুইও তো এরকম ভিডিও দিতে পারিস। দেখতে পারি। মালিকের ঘরে এই সময়েও এ ও সে আসে। কাজ দেখে হাসে। মালিক তার শরীরের তারিফ করে। তাদেরকেও কোনো-কোনোদিন তারিফ করতে বলে।
আজ দেরি করে ফিরছে। রাতের অন্ধকারে বাস চলছে। তার মাসির মেয়েকে ওই ঝোপে পাওয়া গিয়েছিল। পুড়িয়ে দিয়েছিল। তার বান্ধবীর মেয়েকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে দু'দিন রেখেছিল। ওরা ধরাও পড়েছিল। সাতদিন জেলে থেকে বাইরে এসেছিল। তারও মেয়ে, যাকে স্তন দিতে বলছিল ইনস্টাগ্রামে ভিডিও করে। ওরা দেখবে।
রাতের অন্ধকারে বাস চলছে। তার বাড়ি দূর আছে। আজ ক্ষেতে মাড়াইয়ের কাজ ছিল। মালিকের হিসাব করতে দেরি হল। তাই আজ রাত হল। দূরে কোথাও রামায়ণ পালা হচ্ছে। রাম সীতাকে উদ্ধার করেছিল রাক্ষসের হাত থেকে। তারপর পরীক্ষা দিতে বলেছিল। যেমন তার পাশের গ্রামে হয়েছিল, বউ ফেরার পর তার বর তপ্ত পাঁচ টাকার কয়েন ওখানে চেপে ধরে শুদ্ধতার পরীক্ষা দিতে বলেছিল। সে ভিডিও ভাইরাল হয়। অনেক জানাজানি হয়। সে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এখন। দলিত সেও। তাই হয় তো পালাতে হচ্ছে।
বাস দাঁড়াল। অন্ধকার। কন্ডাকটর নামল। হিসির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। চারদিক নিঝুম। বাসটা গর্জন করছে। গরগর। যেন দামাল জন্তু একটা। ড্রাইভার গান শুনছে। কন্ডাকটর উঠল। বাস ছাড়ল। বাসে কেউ নেই। কন্ডাকটর বলল, আলোগুলো নিভিয়ে দাও। ড্রাইভার নিভিয়ে দিল। কন্ডাকটর পাশে এসে বসল। স্থির কাঠ হয়ে বসে সে। আঁচলটা শক্ত হাতে চেপে কোলের উপর। যেখানে মেয়েটা শোয়। বলল, আমার শরীর খারাপ চলছে। হাত দিও না। হঠাৎ মনে হল যেন বাসের সবক'টা সিট থেকে হো হো করে হেসে উঠল কারা যেন। তাদের সবাইকে সে চেনে, আবার চেনেও না। কোথাও যেন পাশা খেলা চলছে। এইমাত্র দান দিল কেউ।
বাস অন্ধকার ভেদ করে চলছে। কন্ডাকটর ঘুমিয়ে পড়েছে পাশে। তার কোলের উপর তার মাথা রাখা। মদের গন্ধ ভেসে আসছে। তার চোখ জুড়েও ঘুম নামছে। অজান্তে কখন মাথায় হাত রেখেছে সে কন্ডাক্টরের। মদের গন্ধে স্বামীকে মনে পড়ছে। মারা গেছে। বিষ মদে।
তার গ্রামের আলো দেখা যাচ্ছে। ঘুমিয়ে সে। স্বপ্ন দেখছে মেয়েকে কোলে নিয়ে একটা জঙ্গলে এসেছে। একা। তার আর তার মেয়ের শরীর জুড়ে জন্মাচ্ছে শেকড়। মাটির মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে গাছ হয়ে যাচ্ছে তারা। মাথা তুলছে তারা ভরা আকাশের দিকে। মেয়ে বলছে, মা, এই দ্যাখো, আমার চোখের মধ্যে নীল মণি জন্মেছে তারার মত। তাকাও। সে তাকাচ্ছে। নীল মণির মধ্যে ছিটে ছিটে লাল বিন্দু। সে বলছে, আকাশের দিকে তাকাস না সোনা, ভয় করে। মেয়ে বলল, কেন? মা বলল, আমাদের তাকাতে নেই।
(Statistics from National Crime Records Bureau (NCRB) reveal a disturbing surge of 45 percent in reported cases of rapes against Dalit women from 2015 to 2020. Furthermore, data reveals an alarming number of 10 incidents of rape against Dalit women and girls are reported daily in India. Thus, despite constitutional safeguards deep-rooted discrimination and violence continues to persist.)
* আজকের কাগজেও আছে। দলিত। ধর্ষণ। রোজই থাকে প্রায়। বিজ্ঞাপনের মত।
[8 March 2025]