চায়ের দোকানে সন্ধ্যাবেলা যেমন ভিড় থাকে তেমনই ভিড়। এদিকে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থাকাতে ভিড়টা বেশিই হয়। আজও হয়েছে।
একটা গাড়ি এসে দাঁড়ালো। একজন বয়স্ক মহিলাকে নিয়ে একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ নামল গাড়ি থেকে। মহিলা দুর্বল। একটা নাইটি পরনে, শীর্ণ শরীর, মাথাটা নেড়া। ছেলের হাত ধরে ধরে চায়ের দোকানের দিকে এগোচ্ছেন, রাস্তা পার হয়ে, সাবধানে।
একজন ছেলে উঠে বসার জায়গা ছেড়ে দিল। মহিলা বসলেন। ছেলের হাতটা ধরা তখনও। সদ্য উঠে যাওয়া ছেলেটার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন, থ্যাঙ্ক ইউ বেটা। দাঁড়াতে পারি না। কেমো চলছে। আজকে নিয়ে বারোটা। তুমি বসবে কোথায়? সিগারেটটা ছেড়ে দাও না।
ছেলেটা খেয়াল করেনি তার হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। তৎক্ষনাৎ দূরে ফেলে সলজ্জ মুখে দূরে গিয়ে বসল। মহিলার ছেলে কৃত্রিম বকুনির সুরে বলল, দিদিমণি নও মা তুমি এখন। ওরকম সবাইকে শাসন করতে পারো না।
মহিলা আবার হাসলেন। বললেন, চিনি ছাড়া, ব্ল্যাক টি। যা।
ছেলে চা আনল, মহিলা চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে একটু উঁচু করে চিয়ার্স বলার মত করে একটু দূরে বসা সদ্য বকা খাওয়া ছেলেটাকে দেখিয়ে হাসলেন। ছেলেটার হাতে তখন ব্ল্যাক কফি। সে-ও তুলে হাসল।
মহিলা ছেলের হাত ধরে উঠলেন। ফিরবেন। দু-পা এগোতেই বকা খাওয়া ছেলেটা এসে বলল, লেট মি হেল্প হার প্লীজ, ইউ জাস্ট ওপেন দ্য ডোর....
মহিলা তার হাত ধরে বললেন, যা বাবু, তুই খোল দরজাটা।
মহিলা ধীরে ধীরে রাস্তার কাছে আসলেন। ছেলেটার হাত ধরা। রাস্তা পার করলেন। নিজের ছেলে চালকের আসনে বসে। মহিলা গাড়িতে বসবেন। ছেলেটা নীচু হতেই বললেন, ডোন্ট ডেয়ার টু থিঙ্ক আই কান্ট রেকগনাইজ ইউ সুমন্ত.... বি এ গুড বয়... এন্ড লিভ দ্যাট ব্যাড হ্যাবিট.....
মহিলা দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। ছেলেটার চোখে জল। মহিলা হাতটা চেপে বললেন, আই ডোন্ট হ্যাভ টাইম টু রিভিজিট ইউ বেটা, সো...প্লিজ...
গাড়ি ছেড়ে দিল। ছেলেটা এসে বসল আবার রাস্তা পার হয়ে। কফির কাপ হাতে নিয়ে ধোঁয়ায় ঝাপসা চারদিক তাকিয়ে দেখল।