দ0রজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে। বাবা রুটি বানাচ্ছে। দোকানে ভিড় আছে আজ। বাবা রুটি বেলতে বেলতে, কাঁধে রাখা গামছা দিয়ে মুখটা মুছে বলল, ভিতরে এসে বোস না।
মেয়েটার বয়েস হবে আট কী নয়। ধীরে ধীরে দোকানে এসে বেঞ্চের একটা কোনার দিকে বসল। বাবা বলল, জ্বর আছে?
মেয়ে মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ।
জ্বর গা। চোখ দুটো লাল। কানের ভিতর ভোঁ ভোঁ করে আওয়াজ হচ্ছে। বাবাকে বলল, তোমার কত দেরি?
বাবা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, এক ঘন্টা।
মেয়েটা উঠল। বলল, বাড়ি যাচ্ছি। তুমি এসো।
বাড়ি এল। আলো জ্বালল। বিছানায় বসে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকল। ঝোপে কত জোনাকি। মায়ের ছবিটার দিকে তাকালো। পাশের ঘরটা অন্ধকার। ওটা মা বাবার ঘর। বিছানায় শুয়ে পড়ল। জ্বরটা বাড়ছে।
বাবা এল ঘন্টা দুই পর। সাইকেলটা রেখে সোজা বাথরুমে গেল। চোখেমুখে জল দিয়ে ফিরে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করল, কী খাবি?
মেয়ে বলল, কিছু না।
বাবা বলল, রুটি আর ডিম দেওয়া তড়কা এনেছি।
মেয়ে বলল, ইচ্ছা করছে না।
বাবা খেল না। মেয়ের মাথাটা কোলে নিয়ে খাটে বসল। জানলার বাইরে জোনাকির দল। প্যাঁচা ডেকে উঠল কোথাও। মেয়ে বলল, আলোটা নিভিয়ে দাও। বাবা হাত বাড়িয়ে আলোটা নিভিয়ে দিল। খানিকবাদে কয়েকটা জোনাকি ঘরে এল। বাবা বলল, দেখেছিস? মেয়েটা হাতটা উঁচু করল ছাদের দিকে। জোনাকি এসে বসুক হাতে। বাবা বলল, দেখ আরো কত জোনাকি ঢুকছে। মেয়ে জ্বরের ঘোরে বলল, দরজাটা খুলে দাও না, আরো জোনাকি আসুক।
বাবা দরজাটা খুলে দিল। জানলাটাও খোলা। মেয়ে বাবার কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘরময় জোনাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসছে যাচ্ছে। তাদের ঘিরে ঘিরে উড়ছে। বসছে না।
রাত বাড়ল। বাবা জিজ্ঞাসা করল, কিছু লাগবে রে মা…..
মেয়ে বলল, মা…..
বাবা চুপ করে থাকল। কপালে হাতটা বুলিয়ে দিয়ে বলল, জ্বরের ওষুধটা শেষ রে মা….কাল আনব….তোর মা থাকলে মনে করাত….
মেয়ে বলল, মা… পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছে….. ডেকো না….
বাবা বলল, ডাকছি না রে মা….. তাকিয়ে আছি…. যদি আসে…..
মেয়ে বলল, ব্যাঙ ডাকছে…. বৃষ্টি হবে…. দরজাটা দিয়ে দাও….
বাবা বলল, দিয়ে দি…
মেয়ে বলল, জানলাটা দিয়ে দাও…. দেখো আমার ঘাম হচ্ছে…… খাবে চলো….
বাবা বলল, তুই খাবি, না আমি খাইয়ে দেব…..
মেয়ে বলল, দাও……
বাবা বলল, আসি। ঠিক হয়েছিস মায়ের মত।
মেয়ের হাতে বসেছে জোনাকি। মেয়ে বলছে, বৃষ্টি আসবে, বাইরে যাস না এখন।