অবসাদ
অবসাদ আছে
যায়, আবার ফিরে আসে।
কারণেই যে আসে - তা না,
অকারণেও আসে।
ওর উদাস দুটো চোখে চোখ রাখি।
জীবনকে দেখার এও তো দৃষ্টিকোণ -
অবসন্নতা।
ভাঙন
চলতে ফিরতে যদি এদিকে তাকাও
তাকিয়ো
আমিও তাকাব
বিনা অনুরোধে
বিনা যন্ত্রণায়
বিনা আশঙ্কায়
বিশ্বাস করব, তুমি ভাল আছো
বিশ্বস্ত থাকব, আমার ব্যাথার কাছে
যে বলেছিল, ওকে আর চেয়ো না
আমি আরেকটা ভাঙন নিতে পারব না।
তাই
ঘন জঙ্গলে না,
তোমায় পেয়েছি
উত্তাল সাগরে
তাই সারা গা
নোনতা আমার
ভাগ্যের জোরে না
তোমায় পেয়েছি
ভাগ্যের সাথে লড়াই করে
তাই সব হাতের রেখা
রক্তাক্ত আমার
কৃতজ্ঞ
জ্যোৎস্নাকে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে দেখেছি।
জানি না, কে কার কাছে কৃতজ্ঞ থাকে।
জ্যোৎস্না পৃথিবীর কাছে?
সে বুক পেতেছে বলে
না পৃথিবী জ্যোৎস্নার কাছে?
সে বুকে এসেছে বলে।
আমিও জানি না
কে বেশি কৃতজ্ঞ,
আমার 'আমি' না তোমার 'তুমি'?
যে ভাবে তুমি মিশেছ আমাতে।
শুধু জানি আমি ভয় পাই
কালো মেঘ আর গ্রহণের আড়ালকে।
প্রভু
রথের দিন,
সাজো সাজো রব চারিদিকে।
কেউ গাঁথছে মালা, কেউ বাঁটছে চন্দন,
কেউ গাইছে ভজন, কেউ করছে নর্তন।
মালীর ছোট মেয়ে,
বছর আটেক হবে
বলে, নিজের গাঁথা মালাখানি
প্রভুর গলায় দেবে।
বাড়ির লোক কত বোঝায়
আরে আমরা যে জাত নীচু
বোঝায় যত বাড়ে জেদ
বলে শুনব না তো কিছু!
একলা আনমনে
একটানা বৃষ্টির আওয়াজ
বাইরের দরজায় খিল দিয়ে
মন মেঝেতে অ্যালবাম ছড়িয়ে বসে,
হাসে, কাঁদে, উদাস হয় আনমনে।
বৃষ্টি তার সব কথাই জানে।
ছাদের উপর
পাতার উপর
টুপ টাপ যেই পড়ে
সে যেন তার ছোটবেলার হাত, আনে
বুড়োবেলায় খেলতে যাওয়ার ডাক,
অবশ্যই মনে মনে।
শুনেছি কি?
মনকে বলেছি, ভেবো না
চোখকে বলেছি, চেয়ো না
হৃদয়কে বলেছি, শান্ত হও
সময়কে বলেছি, বয়ে চলো
বৃষ্টিকে বলেছি, ঝরে চলো
রক্তকে বলেছি, ছুটে চলো
ওরা শুনেছে হয় তো
আমি শুনেছি কি ?
ভিজে পায়ের ছাপ
এখানে খুব বৃষ্টি হচ্ছে জানো
তোমার ওখানে?
তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজেছি
সারা সকাল
তোমায় না বলে।
দৃষ্টি
ঘুরে ফিরি
তোমার মুখের দিকে চাই
তুমিও চাও
বুঝি, তুমি চেয়েই থাকো -
তা জেনে
প্রাণে নিবিড় শান্তি খুঁজে পাই।
আবার ফিরি সংসারেতে
আবার কাজে জড়াই
ভয় নেই তো
পড়ি যদি, ধরবে তো গো-
তোমার দু'হাত বই
আমার, আর যে কিছু নাই।
ফিরো না আমার সাথে
আমার সাথে ফিরো না
কি হবে হেঁটে?
আমি তো বাজারে যাব না।
আমার কেনার মত কিছু নেই,
পাওয়ার মত একটা কিছু আছে অবশ্য,
নিজেকে।