"একটা পাখিও যদি আমার সামনে দিয়ে উড়ে যায়, আমায় একলা করে যায়"।
বিনোদ কুমার শুক্লা। এবারে জ্ঞানপীঠ পেলেন। ওঁর সাহিত্যের মান আলোচনা করার ধৃষ্টতা দেখাব না। ওঁর একটা উপন্যাসের শুরুর লাইন, "গোটা গ্রামে দুটোই পাকা বাড়ি ছিল, এক, গ্রামসেবকের কোয়ার্টার আর দুই থানা।".... পড়ে চমকে গিয়েছি।
সে সব আলোচনা যদি কখনও হয় করা যাবে। যে কথাটা বলার জন্য লিখতে বসলাম। বিনোদজীর বাবা অনেক ছোটোবেলায় মারা গেছেন। অভাবের সংসার। একদিন কিছু পয়সা বেঁচেছে। বিনোদজী মাকে জিজ্ঞাসা করছেন, মা, এ পয়সা দিয়ে কী করব? মা বললেন, ভালো বই কিনে আনো। ভালো বই মানে? কার বই? বিনোদজীর মা তিনজন লেখকের নাম বলেছিলেন, শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ আর বঙ্কিমচন্দ্র। হিন্দি সাহিত্যের কিংবদন্তী লেখক হতে চলেছেন যিনি, তিনি তাঁর ছোটোবেলায় মায়ের কাছ থেকে তিনজন লেখকের নাম শুনছেন, শরৎ, রবীন্দ্রনাথ আর বঙ্কিম। তিনি কিনে আনলেন, 'বিজয়া'। পড়তে শুরু করলেন। লেখক জীবন শুরু হওয়ার দীক্ষা পেলেন। পরে এলেন হিন্দি সাহিত্যের মহীরুহস্বরূপ মুক্তিবোধ প্রমুখেরা ওঁর জীবনে। কিন্তু এইভাবেই শুরু হয়েছিল। আজীবন সরল, সহজ, "story without tale" বা গল্পহীন কাহিনীতে, প্রাণের সহজতম তার ছুঁয়ে যাওয়ার কবিতা রচনায় কাটিয়ে গেলেন, যাচ্ছেন। প্রণাম ওঁর সৃষ্টিসত্তাকে। আর অবশ্যই আনন্দিত ওঁর জ্ঞানপীঠ পাওয়াতে।