যে বৃদ্ধ মানুষটা বছরের পর বছর বেঁচে আছে, পাড়ায় শুকিয়ে যাওয়া নর্দমার মত, সবার বিস্মরণে, সে যখন তৃতীয় ভাতের দলাটা গিলতে গিয়ে হৃৎযন্ত্র বন্ধ হয়ে মারা গেল, তাকে শোয়ানো হল সাজিয়ে, বাড়ির সামনের রাস্তায়। উঠান তো নেই। প্রতিবেশীর পঞ্চাশজোড়া চোখ, শতাধিক পথচারীর জোড়া জোড়া চোখের সামনে সে শুয়ে, কী মহিমায়। শান্ত। সবাই স্পষ্ট মৃত্যুকে দেখছে, তাকে নয়। মৃত্যুর বার্তা আনা চিঠি, যা নিত্য দিনের অভ্যাসে মুড়ে এড়িয়ে চলে মন, সে আলগা হয়ে খুলে, পাঁজরে বিঁধে। সংসারে ক্ষুদ্র, তুচ্ছ অনুভব করানোর মল্লযুদ্ধ চলে আমাতে তোমাতে। যে মানুষটা ক্ষুদ্র, তুচ্ছ হতে হতে, নিজের মাথাটাকে নিজের পায়ের বুড়ো আঙুলে এনে ঠেকিয়েছে, সে কী এক স্বস্তি পায় মৃত্যুকে দেখে। এত বড় অভ্যর্থনা আছে জীবনের শেষে? এমন নির্বিচার সে? মৃতদেহ বাসি হয়। মৃত্যু চিরনবীন। সব তুচ্ছপ্রাণের শেষ ভরসা। একদিন চলে যাব। সেদিন আমাকে তুচ্ছ ক্ষুদ্র করার সব সরঞ্জাম নিয়ে তোমরা থেকো, তোমাদের মত করে। আমি চলে যাব। আমাকে সাজাতেই হবে সেদিন। আমাকে দাহ করতেই হবে সেদিন। তুমি না চাইলেও। আমাকে এড়িয়ে যাবে সেদিন? হবে না তো। তোমার মৃত্যু তাকিয়ে থাকবে অসহায় আমার মৃত্যুর দিকে। সব সংসার ফিকে সেদিন। তোমায় ছেড়ে কিছুটা দূরে, তুমি একা।
sumanasya
10 February 2025