হঠাৎ বৃষ্টি চলে এলো। জানলাগুলো বন্ধ করতে করতে, ঘরটা অন্ধকার হয়ে গেল। কারেন্ট নেই। দিনের বেলায় এমন অন্ধকার! বাইরে বৃষ্টির শব্দ, বাতাসের ঝাপটের শব্দ। এত অন্ধকার!
এখন কিছু করার নেই। মানে হাতে পায়ে কিছু করব কী করে? মনের মধ্যে ছবি ভাসছে। অবাস্তব ছবি। যা ঘটেনি, ঘটবে না, তা ঘটে যদি? ভাষা না থাকলে মানুষ শান্তি পেত অনেক বেশি। পাপ কমে যেত ভাষা না থাকলে। অভিশাপ যেন! ভাষার ঘরে এত রাশি রাশি মিথ্যার পুঁজি!
উঠে হাঁটতে শুরু করলাম ঘরে। খাট, টেবিল, চেয়ার সামলিয়ে হাঁটছি। কবিতা বলি যদি? যদি গান গাই? সুখ হবে। কিন্তু আমি তো সুখ চাইছি না। আমি তো চাইছি সুখের থেকে সত্যি কিছু। কী সেটা?
বাজ পড়ছে একের পর এক। কেউ কেউ শাঁখ বাজাচ্ছে। ভয়ে। ভয় তো কল্পনা। ভাষা ভাসাচ্ছে কল্পনায়। সে ভাষা থেকে ছবি। ছবি থেকে ভয়। ভয় মানুষের আবরণ।
সুখ চাইছি না। সুখের থেকে সত্যি কিছু চাইছি। শান্ত মন হোক। শান্ত হোক ঘরবাড়ি। পাড়া প্রতিবেশী। শান্ত হোক সব। সুখের চেয়ে স্বস্তি ভালো, লোক বলে। স্বস্তি মানে কী?
ঘরের মধ্যে ভ্যাপসা গরম। গা ঘেমে উঠছে। ঘামে ভেজা জামা গায়ের সঙ্গে চেপে যাচ্ছে। জামাটা একটু টেনে ধরলে গা থেকে, অস্বস্তিটা কমছে। এই স্বস্তি। একটু দূরত্ব বাড়ানো, দূরে না গিয়েও, যখন ঘিরে ধরে অস্বস্তি। সেই স্বস্তি।