তখন নামছে সন্ধ্যে। আলতো বিছানো পর্দার মত। দোকানে দোকানে জমছে ভিড়। জ্বলে উঠছে একে একে চোখ ধাঁধানো আলো। সে বসেছে বাবার পাশে, ফুটপাতে, আলোর নীচে, কোল ঘেঁষে। সামনে মেলা মাটির পুতুলের সারি। চলছে বিকিকিনি।
এমন সময় উঠল সে। সন্ধ্যাতারা। ওই যে মোড়ে গান্ধীর সাদা মূর্তি, ওরই মাথা দিয়ে, টিমটিমিয়ে তাকিয়ে আছে চেয়ে। সে তাকিয়ে বলল বাবার কানে, সন্ধ্যাতারা উঠে গেল, ঠাকুমাকে বলো, তুলসীতলায় জ্বালুক প্রদীপ গিয়ে।
ফোন রেখে বাবা বলল, বলে দিলাম, খাবি কিছু? আনব কিনে মুড়ি, ভিজে ছোলা দিয়ে? সে তাকালো রোলের দোকানে, কী ভিড় কী ভিড়। খাচ্ছে সবাই। ভুলুটাও লেজ নাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ ফেললে কিছু, খাবে হাম হাম করে গিয়ে। আড়চোখে আবার দেখবে তাকে, যেন ডাকছে তাকে, আসবি নাকি, দেখবি নাকি খেয়ে?
বাবা আনল মুড়ি। বাবা ছেলে চিবাতে চিবাতে সন্ধ্যাতারা কোথায় গেছে ঢলে। ছেলের চোখে ঘুমের ছায়া। বাবা বলছে, শো না তুই কোলে মাথা দিয়ে।
বন্ধ চোখ। বাবার কোল। এত আওয়াজ কমে কমে কোথায় যাচ্ছে মিশে। সন্ধ্যাতারা কপালে নিয়ে মা এসেছে আকাশ থেকে নেমে। বলছে, বুবুন, আজও তোকে দেখে গেছি, সন্ধ্যাতারা হয়ে। ভুলু ব্যাটা ভীষণ পেটুক, ভালোই করিস ওসব না খেয়ে। মিথ্যা হবে পেটে ব্যথা। তার চাইতে পুজোর সময় একদিন কী দুদিন না হয় খেলি, বাবাকে আমি বলে যাব মহালয়ায় নিজেই বাড়ি গিয়ে।
ঘুম ভাঙল বাবার ডাকে। বাবার গোছানো সারা। দোকানপসার বন্ধ হচ্ছে, বাবা বলল, চলো বাড়ি, গিয়ে এবার করি লেখাপড়া। বুবুন বলল, মহালয়ায় মা আসবে, কিছু তোমায় বলবে কানে কানে, প্রমিস করো মনে রাখবে, যা বলবে তাই আনবে কিনে।
বাবা বলল, যদি ভুলি মনে করাস, তোর মাকে যদি চিনতে না পারি, বয়েস হয়েছে, পুরোনো চশমা, পাওয়ারও তো হয়ে উঠেছে ভারী।
বুবুন বলল, বেশ বেশ, করাব মনে। তুমিও যদি রোজ আকাশে চাও, দেখবে মা তাকিয়ে আছে, সন্ধ্যাতারা হয়ে। ঠাকুমা বলে, সব জানে মা, তুমি যদি চিনতে পেরে যাও।