Skip to main content

 

দুটো সিঙাড়া আর একটা রসোগোল্লা দাও।

নিয়ে যাবে, না খাবে দাদু?

উত্তর না দিয়ে দোকানের সামনে পাতা চেয়ারে বসল। সামনে অপরিষ্কার টেবিল। একটা ছেলে আর মেয়ে কচুরী খাচ্ছিল। একটু আগে উঠে গেছে ওরা। জায়গাটা ময়লা। কিন্তু কী একটা সুখ রেখে তো গেছে। তাই বসল। একা উঠতে পারবে না জেনেও বসল।

সিঙাড়া গরম। কাঁপা কাঁপা হাতে ভেঙে ঠাণ্ডা করতে দিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে বসে। এই রাস্তা দিয়েই স্কুল কলেজ অফিস শ্মশান…. কোথায় না গেছে। জীবন বাইরের দিক থেকে পূর্ণ। ভিতরে দীর্ঘশ্বাসের বেলুন। ফেটে যাবে, না তো উড়িয়ে নিয়ে যাবে।

একটা বাচ্চাকে নিয়ে মা এসে বসল সামনের চেয়ারে। বাচ্চাটা স্বাভাবিক নয়। প্লেটে করে দুটো সন্দেশ দিয়ে গেল। মা ভেঙে বাচ্চাটার মুখে দিল। লাল পড়ছে। বাচ্চাটা মুখ থেকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলল। কুকুরটা বসেছিল। সেটাকে চিবিয়ে লেজ নাড়তে নাড়তে কাছে এসে বসল আরো। বাচ্চাটা কী যেন বলল। বৃদ্ধ কানটা এগিয়ে শুনতে গেল। পেল না। কিন্তু কী বলল, জানতে ভীষণ ইচ্ছা করল। তার দিকে তাকিয়ে বলল যে। কেউ তার দিকে তাকিয়ে নতুন কথা বলেনি অনেকদিন।

এই যে…. দাদুভাই…. এই যে…. কী বলছ…. কেমন আছো? আমি ভালো আছি দাদুভাই। আমি একা থাকি। আমার খোঁজ নিতে আসে দুটো বেড়াল। ওদের জন্য দুধ নিই। তুমি দুধ খাও দাদুভাই?

এতগুলো কথা একসঙ্গে বলে বৃদ্ধ হাঁপাচ্ছে। বুকটা হাপরের মত পড়ছে। বাচ্চাটা উত্তেজিত হয়ে কী বলছে। জিভ অস্থির হয়ে মুখের ভেতরে ছাদে দাঁতে মেঝেতে আছাড় খাচ্ছে। লালা ঝরছে মুহূর্মুহু। মা রুমালে মোছাতে মোছাতে বলল, ও বেড়াল ভালোবাসে। আপনি বেড়ালের কথা বললেন না?......

আমার কথা বুঝছে ও….. দাদুভাই তুমি বুঝেছ….. একটা সাদা বেড়াল আর একটা লাল….. মাথার মধ্যে বেড়ালের রঙ বদলে বদলে… যাচ্ছে… বাচ্চাটার হাতের উপর হাত রেখে বৃদ্ধ বলছে, তুমি যাবে?

বাচ্চাটা জোরে জোরে মাথা নাড়তে শুরু করল। হঠাৎ কারেন্ট চলে গেল। চারদিক অন্ধকার। বৃদ্ধ ভয়ে হাত ছেড়ে গুটিয়ে চেয়ারে বসল। বাড়ি ফিরে যাবে কী করে? অন্ধকারে ভালো দৃষ্টি যায় না। বাচ্চাটাকে জড়িয়ে মা বসেছে। রাস্তা দিয়ে গাড়ির আলো সাঁ সাঁ করে ছুটে যাচ্ছে। বৃদ্ধ দুবার উঠতে চেষ্টা করল। হাতের আঙুলে লেগে ঠাণ্ডা সিঙাড়ার আলু। আচমকা বাচ্চাটা বীভৎস জোর চীৎকার করে উঠল। কয়েক ফোঁটা হিসি বেরিয়ে গেল বৃদ্ধর চমকে গিয়ে। সাদা পায়জামা ভিজিয়ে গেল। আজকাল হিসি ধরে রাখতে পারে না। বাচ্চাটার চীৎকার থামছেই না। মা কোলে জাপটে বলছে, ও তো দাদু…. তোমাকে এখনি বেড়ালের গল্প বলল…. দাদু তো…… বাচ্চাটা বৃদ্ধর দিকে আঙুল তুলে কী বলছে….. মা তার মুখটা নিজের কোলে গুঁজে নিল। এমন সময় কারেন্ট চলে এলো। সব শান্ত আবার।

বৃদ্ধ উঠে দাঁড়াতে আরো কয়েকবার চেষ্টা করল। দোকানের ছেলেটা এসে দাঁড় করিয়ে দিল। টাকা নিল। বৃদ্ধ কারোর দিকে না তাকিয়ে ফিরে যাচ্ছে। টলতে টলতে হাঁটছে। বাচ্চাটা তার দিকে তাকিয়ে কী যেন বলছে। দাঁড়াতে বলছে কি? মা ডাকল, মেশোমশাই…..

বৃদ্ধ হেঁটে যাচ্ছে। দোকানি বলল, কানে শোনে না। একাই থাকে। ছেলে বউমা বিদেশে। বউ নেই।

বাচ্চাটা ডেকেই যাচ্ছে। মা বলছে চুপ চুপ। কুকুরটা লেজ নাড়ছে। প্লেটে এখনো সন্দেশ আছে বাকি কিছু।