ছোটোবেলায় ঠাকুমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মা কালী কেন জিভ বার করে দাঁড়িয়ে?
ঠাকুমা সে উত্তরে একটা গল্প বলেছিলেন। সে গল্প কতটা পৌরাণিক আমার জানা নেই। কিন্তু গল্পটা আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল।
ঠাকুমা বললেন, মা কালী যখন ধ্বংসলীলায় একে একে অসুর নিধন করেই যাচ্ছেন দেবতারা ভয় পেলেন, মা থামবেন কোথায় এই ভেবে। শেষে যদি অনেক অন্যায্য হত্যালীলাও হয়ে যায়? তখন সবাই শিবের শরণাপন্ন হলেন। শিব তখন মায়ের যাত্রাপথে শুয়ে পড়লেন। মা তখন হত্যালীলায় উন্মত্তা, খেয়াল করেননি পথে কে, তিনি শিবের বুকে পা তুলে দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং সহসা খেয়াল করলেন পায়ের নীচে শিব, তাঁর স্বামী। তিনি লজ্জায় জিভ কাটলেন।
আমি আবারও বলছি, এ গল্প কতটা পৌরাণিকভাবে খাঁটি আমি জানি না। আমার আগ্রহের বিষয়ও সেটা নয়। কিন্তু এইটা যত দিন গেছে বুঝেছি, আজও প্রতিপদে বুঝি, শক্তি যতই প্রবল হোক না কেন তা যদি শিবহীন হয় তবে তা অকল্যাণের। বিপদের। সে রাজনৈতিক শক্তি হোক, কী অর্থনৈতিক, কী ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দলগত শক্তি - শিবহীন হলেই বিপদ। ঘোর বিপদ। শক্তির মধ্যে শিবকে প্রতিষ্ঠা করাই মনুষ্যত্বের চ্যালেঞ্জ। তার ধর্ম। শিব অর্থে মঙ্গল। শক্তি শিবযুক্ত হলে নিজের ধ্বংসলীলা দেখে লজ্জা পায়। সংযত হয়। তখন সেই রূপই আমাদের পূজ্য হয়। কারণ সেখান থেকেই মঙ্গলের সূচনা।