কুম্ভে এসে মনে হল, ঈশ্বর পরিযায়ী। যখন বয়েস কম ছিল, ঈশ্বর ছিল কবির মত। যখন যুবক হল, ঈশ্বর হল ছুঁৎমার্গীর মত। যখন যৌবনের শেষে এল, মানে এখন, ঈশ্বর ভাঙা ভাঙা গুঁড়োর মত। সে ভাঙা গুঁড়োতে কল্পনার জল মিশিয়ে যেমন খুশী বানিয়ে নাও। কুম্ভের জলে ডুবে মনে হল, ঈশ্বর অতল। স্নানের পর জামাকাপড় শুকাতে বসে আছে। পেটটা খারাপ হয়েছে। শরীর দুর্বল। বিশ্বাস নেই। অন্ধকার আছে। রহস্য আছে। মৃত্যু আছে। জরা আছে। আস্থা নেই। আশা আছে। কেউ ডাকল। খেতে যাবেন না? লক্ষ্মীপতি সম্প্রদায় থেকে আজ প্রসাদ দিচ্ছে। লুচি আর সয়াবিনের তরকারি। খোঁজ নিয়েছি। চলুন। খেতে বসেছে সব পঙক্তি করে। গেরুয়াটা শোকায়নি। কোমরটা ভিজে ভিজে লাগছে। আর দেবেন না। থাক। জয় হোক। উঠি। আজই ফিরব। বাংলায় আশ্রম। ফিরে গিয়ে আবার খুঁজব ঈশ্বরকে। হৃদয়ে? হৃদয়, আছে নাকি? ঘুম আছে, জাগা আছে। খিদে আছে, চিন্তা আছে। ঈশ্বর নিজেই ভুলে গেছেন তিনি ছিলেন। ঈশ্বর যদি ঈশ্বরকে মনে না রাখে, আমরা পারি? বাংলায় ফিরে গিয়ে বসব পুকুরপাড়ে। আশ্রমের ধারে পুকুর। নির্জনতায় বুকের মধ্যে নূপুরের শব্দ। গ্রহ নক্ষত্রের চলাফেরা জানা ঈশ্বর, আমার হাঁড়ির খবর রাখতে যাবে কেন? ঈশ্বর ভাবি না। গুরু ভাবি। গুরুর পাদুকা। গুরুর তামুক খাওয়ার গুড়গুড়া। গুরুর গেরুয়া। গুরু পার করে। গুরু চিন্তা করব। কী ভুল করলাম এখানে এসে, শুধুই ধকল। এখানে আমার গুরু কই? ট্রেন ছাড়ল। প্রচণ্ড ভিড়। ভিড়ের মধ্যে জন্মাচ্ছে ভিড়। খবরের কাগজে প্রধানমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। একজন পাশ থেকে বলছে, মহাকুম্ভ মানে এক নেশান। লিখেছে। দেখেছেন। দেশটায় এতদিনে ধর্ম জাগছে। বাইরে তাকিয়ে উদাস। দেশ কী? নেশান কী? ধর্ম কী? বিবেক না জাগলে গুরুর গেরুয়ায় ছাতা ধরে। রোদে শুকাতে দিতে হয়। পেটটা ধরেছে। এই কি করুণা? গুরু আসছি।