আমের বোলে মুখ গুঁজে পড়ে থাকল পোকাটা। খুবই কুৎসিত সে। দুষ্ট চরিত্র। সবাই তাই জানে। সবাই তাও বলল, সরে যাও, মরবে যে। পোকাটা উত্তর করল না। একদিন বোলটা ভেঙে পড়ল মাটিতে। অকালে। পোকাটাও পড়ল তার সঙ্গে। বোলটা শুকালো ধীরে ধীরে। পোকাটাও মরল একদিন বোলের সঙ্গে সঙ্গে। ততদিনে সবাই ভুলেছে তাদের কথা। কেউ এও জানল না, ওই পোকাটাই একদিন কেটেছিল ওই বোলের বৃন্ত, অতিরিক্ত রসের লোভে। বসন্তের ধুলোয় মিশল পোকার দেহাবশেষ আর বোলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রেণু।
সামনে শিবরাত্রি। মেয়েটা শিব গড়বে। মাটি এনে মাখল নদীর জলে। সে মাটিতে মিশল পোকা, সে মাটিতে মিশল বোল। মেয়েটা মূর্তি রাখল তুলসীতলায়। শুকিয়ে যাবে রোদে সামনের এ কদিনে। রাতে সে ভিজে মূর্তিতে পড়ল চাঁদের আলো। মাটি বলল, শিব গড়বে আমায়! কী অনর্থ বলো। কী করব আমি, জানো যদি কিছু, যদি বলো আমায় করুণা করে। চাঁদের আলো বলল, তোমার সর্বাঙ্গে মিশেছে ক্ষমার রঙ, ভালোবাসার গুণে। ক্ষমার আনন্দে বসন্ত ওড়ায় ঝরা পাতার বিষাদ। সব তৃপ্ত হয় সেদিনে। শিব এসে বসেন ধরাতলে। সব তুচ্ছ ধন্য হয় সে পরমানন্দের কৃপাকটাক্ষ বলে।