Skip to main content

 

বুকে ব্যথা নিয়ে সে স্টেশনে এলো। ব্যথা যখন বাড়ল তখন ট্রেন ঢুকছে। এই ট্রেনে সে অফিস যাচ্ছে বত্রিশ বছর হল। যখন সে উঠেছে তখন কুলকুল করে ঘাম হচ্ছে। মাথাটা চক্কর দিল। আবছা দেখতে দেখতে ট্রেনের হাতল ধরল। ঘামে পিছলে গেল হাত। এই অতিপরিচিত সহযাত্রী ডাকল, মিত্তিরদা আসুন...এইদিকে। সে শুনল। হাসার চেষ্টা করল। হল না। গা গুলাচ্ছে। বুকের কাছে চাপ ধরে আসছে। নেমে যাবে? কী হবে? বসে পড়ল। কেউ বলল, জল। সব অন্ধকার।

তখন এক তরুণ মোবাইল ঘাঁটছিল দরজার একটু পাশেই দাঁড়িয়ে। তারও এই ট্রেনে যাতায়াত। সবে শুরু হল দু বছর হল। তার স্বপ্নগুলো নতুন ছবির মত চকচকে। মাথার উপর ট্রেনের পাখার হাওয়ায় ঘোর লাগে। চোখ জুড়িয়ে আসে। বৃষ্টিতে জলের ছাঁটে জামা ভিজলে হাসি পায়। সুখ লাগে চটচটে মিষ্টির মত। প্রচণ্ড ভিড়ে এর ওর ঘামের গন্ধে পিষে যেতে যেতে ঘরের দেওয়ালের রঙ মনে জাগে। ঘরে যে নতুন মানুষ এসেছে তার চুলের গন্ধ, দৃষ্টির মাদকতা, হাসির উচ্ছ্বাস....এসব মনে পড়ে। মিষ্টি করে বলে, একটু সরে দাঁড়ান না।

সেই ছেলেটা মোবাইল থেকে চোখ তুলে একবার তাকালো। নেতিয়ে পড়া, ঘামে শরীর ভিজে যাওয়া, প্যান্টে হিসি হয়ে যাওয়া মানুষটার শেষ মনে এসেছিল একটাই কথা, এ মাসের ইলেকট্রিক বিলটা কাঠের আলমারির মাথায় পুরোনো ব্যাটারি চাপা দেওয়া।

মারা যায়নি। কিন্তু যেতেও পারত। সেইভাবেই অফিসে গেল। বড়বাজারে। সামনের মাসে ছুটি লাগবে কয়েকটা। ছানি কাটানোর আছে।

তরুণ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে। তার পাশ দিয়ে হেঁটে গেল একটু আগে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মানুষটা। তরুণ আকাশের নীল রংয়ের দিকে তাকিয়ে আসন্ন পুজোর দিন গুনল। বয়স্ক মানুষটা তেতে পুড়ে যাওয়া রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ভয় পেল সামনে প্যান্ডেলের জন্য আনা বাঁশ দেখে। গলাটা শুকিয়ে এলো। বড়বাজারের দোকান থেকে ফোন আসছে। দেরি হচ্ছে তার পৌঁছাতে। তরুণ বাসে উঠতে উঠতে ভাবল, দীঘার টিকিট কাটবেই এবারে পুজোয়। দোকান থেকে ফোন আসছে। আজ তার দেরি হল ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। করুক ফোন। ভয় পায় নাকি। একটা কাজ গেলে কত কাজ আছে?

বয়স্ক মানুষ থমকে দাঁড়ালো। আজ তার জন্মদিন যে! সামনের রাস্তায় শুয়ে পড়তে ইচ্ছা করল। একটা বাস এসে চলে যাক তার উপর দিয়ে। ডেকে নিয়ে যাক তাকে যেখানে গেলে কোনো বিল বকেয়া থাকে না।