হিংসার কোনো ধর্ম হয় না। কিন্তু ধর্ম হিংসাকে উস্কাতেও পারে।
ভালো হতে কোনো ধর্ম বিশ্বাস লাগে না। কিন্তু ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে ভালো হতে অনুপ্রাণিত করতেও পারে।
র্যাশেনাল হওয়া মানেই সেকুলার বা নাস্তিক হওয়া নয়। শুধু ইট পাথর দিয়ে যেমন বাড়ি বানানো যায় না, একটা সিমেন্টিং ফ্যাক্টর লাগে, তেমনই যুক্তিকে চলনসই করে জীবনে ঢালতে একটা বিশ্বাস আস্থাও লাগে। বিশ্বাস একটা সিমেন্টিং ফ্যাক্টর। সে যে ঈশ্বরেই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই, মানুষ মধ্যে ভালোত্বে বিশ্বাসই আসল বিশ্বাস। সেই ভালোত্বের একটা পূর্ণরূপ ঈশ্বরের কল্পনা, সেই ভালোত্বের বিপরীতে দাঁড়িয়ে অসুর বা শয়তানের কল্পনা। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় যে ভালোত্বের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ। বিবেকানন্দের ভাষায় বহুরূপে সম্মুখে আমার যে ঈশ্বর। যিনি আমার মধ্যে পূর্ণতার স্বাদ, আমার ভালোত্বের উপর আস্থা। মানুষের মধ্যে ভালোত্বে আস্থা অবশ্যই রোম্যান্টিসিজম, আইডিয়াল থট। প্রমাণ ধরে শুধু এগোতে গেলে হাতে অবসাদের ঝুলি ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে না। এ আস্থা ছাড়া আমাদের উপায় কী আছে? চোখের বদলে চোখ, প্রাণের বদলে প্রাণ ভীষণ প্র্যাক্টিকাল শোনালেও সেটাই শেষ কথা হতে পারে না। হতে দিতে নেই।
এ কথাগুলো লেখার যোগ্য আমি নই। আমার চেয়ে ভালো সে কথা আর কেউ জানে না। কিন্তু আমার স্বাধীনতা আছে এঁদো পুকুরে স্নান করব না স্বচ্ছ জলধারা নদীতে স্নান করব সে বেছে নেওয়ার। যেখানে স্নান করব সেখানের জল আমার গায়ে লাগবে। আমার তো স্বাধীনতা আছে সমুদ্রে স্নানে যাওয়ারও। তাই এ কথাগুলো বলা। পাশের বাড়ি আগুন লাগলে আমার বাড়িও আগুন লাগানোর বুদ্ধিতে আমি বিশ্বাসী নই। যে পরিচয় এক প্রজন্ম গঠন করে সেই পরিচয়ের ভার, দায় পরবর্তী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বহন করে যেতে হয়। গোটা বিশ্বের দরবারে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে বেঁচে থাকার চাইতে শুভবুদ্ধির হাতে জীবনযাপন অনেক দামী কথা। আমাকে সেকুলার, বুদ্ধিজীবী, ধার্মিক ইত্যাদি কিছুই হতে হবে কী হবে না পরে দেখা যাবে, আগে আমাকে মানুষ হতে হবে এইটা সব চাইতে আগের কথা আমার কাছে। আর কাণ্ডজ্ঞান, বোধবুদ্ধি হারিয়ে অন্তত সেটা হওয়া যায় না।