গতকাল মাতৃভাষা দিবস নিয়ে কত ভালো ভালো ভাবনা মাথায় ঘুরছিল, কত ভালো ভালো লেখা পড়া হল এখানে, কিন্তু সেই মাতৃভাষার চক্করেই যে এমন মানসম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে কে জানত। কী হল বলি।
দুই বন্ধু হালিশহর থেকে ট্রেনে উঠলাম। বসার জায়গা পেলাম। দুজনে পাশাপাশি বসে সামনে কোথাও একটা বেড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। কথায় কথায় এলো ভাগলপুর।ভাগলপুরের ওদিকে কোনোদিন বেড়াতে যাইনি, গেলে কেমন হয়? এই বলে সদ্য ইউটিউবে দেখা ক'টা ভ্লগের কথা বলছিলাম।
কী হল, আমাদের ঠিক উল্টোদিকে বসা একজন ভদ্রলোক পেপার পড়ছিলেন। তিনি কাগজটা সরিয়ে মুখের সামনে থেকে বলে উঠলেন, ভাগোলপুর যাবেন….যান যান…ঘুরে আসুন…..খুব ভালো জায়গা।
ভদ্রলোকের উচ্চারণটা পুরো মগনলালের মত, মানে উৎপল দত্ত যে টানে কথা বলেছিলেন ‘'জয়বাবা ফেলুনাথ” এ। বুঝলাম অবাঙালি। জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার বাড়ি কি ওখানে?
উনি আবার মগনলালের টোনে বললেন, না না….আমার বাড়ি গেয়া (গয়া)......আমার মেসো থাকত ভাগলপুরে…..আপনার ও সব জায়গা আমার চোসা..(পড়ুন, চষা)
শেষ বাক্যটায় আমি আঁৎকে উঠেছি…কী বলে রে…..চারদিকে তাকালাম…..দাদা হে আমি চব্যচোষ্যলেহ্যপেয় কিছুই নই….
আমি প্রসঙ্গান্তরে যেতে চাইলাম। আমি যেতে চাইলে কী হবে, উনি তো ছাড়ার পাত্র নন। তিনি বলে যেতে লাগলেন, ভাগলপুরের সব কুছ আমার চোসা….যান ঘুরে আসুন….।
বুঝলাম গোটা সংসার ওঁর অজান্তেই ওঁর কাছে চোষ্য হয়ে উঠেছে, আমি থামতে চাইলে কী হবে। এও বুঝলাম, সংসারে শ্লীল অশ্লীল শুধু বাচকের উপর নির্ভর করে না, সঠিক জায়গায় আকার, ইকারের উপরও নির্ভর করে। সে সব ঠিক জায়গায় ঠিক মত না বসালে যে কী হয়!