Skip to main content

 

রজনীগন্ধার মালার গোছা হাতে ঝুলিয়ে নিয়ে, একটা বন্ধ দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছে। এত মালা কে কেনে? আষাঢ়ের আকাশ ভাঙা বৃষ্টি, বাজারের রাস্তা মাতাল নদীর মত। তার নাকে আসছে না হাতে জড়ানো ফুলের সৌরভ? মালাগুলো তো ভিজে। ভিজে ফুলের গন্ধ - কোনো আবেদন নেই ওর কাছে?

আজকের মত রুটি বেলা নেই আর। দোকান গোটানোর সময়। এই বৃষ্টিতে কে আসবে? উনুন নিভিয়ে, মুছে দোকানের বাকি আলোগুলো নিভিয়ে একটা টিমটিমে আলো মাথার উপর জ্বেলে অপেক্ষা করছে, সেও বৃষ্টি থামার। হঠাৎ চোখ পড়ল মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার দিকে। ইশারায় ডাকল। হয় তো খানিক আগের মুহূর্তেও ভাবেনি ডাকবে। মালাওয়ালা ফুলপ্যান্টের নীচটা এক হাতে গুটিয়ে দৌড়ে এলো তার দোকানের সামনে। রুটির দোকানের মালকিন ঠাণ্ডা চাটুর উপর বালা পরা হাতটা রেখে জিজ্ঞাসা করল, কত করে?

বৃষ্টি নামল জোরে। একটা টুল পেতে বসতে দিয়েছে তাকে রুটির দোকানের মালকিন। মালকিনের খোঁপায় একটা মালা। হাতে প্লাস্টিকে ভরা সাপের মত কুন্ডুলি পাকানো দুটো মালা। রাস্তা তখন মাতাল নদী। আকাশে সেই মেঘদূতের প্রাচীন মেঘ। বৃষ্টিপাতের শব্দের মত সেই ছন্দও আদিম। মালার সৌরভ নেভা উনুনের গন্ধ, সেঁকা রুটির গন্ধ ছাপিয়ে ম ম করছে। আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা মালার গন্ধ কেমন কালিদাস? কেমন জয়দেব?