Skip to main content

 

রাজার কাছে খবর গেল গ্রামে চোরের উপদ্রব বাড়িয়াছে। রাজা শুনিলেন চোরেরা আশেপাশের গ্রামেই বাস করে। রাজা শুনিলেন তাহাদের মধ্যে দ্রোহীও আছে। রাজা ভাবনায় পড়িলেন। ভাবনায় পড়ার যথেষ্ট কারণও ছিল। রাজার কাছে এমন দক্ষ লোক নাই যে তাহারা চোর ও দ্রোহী পৃথক করিতে পারে। অগত্যা তিনি সব কটি গ্রামে ঢ্যাঁড়া পিটাইয়া ঘোষণা করিলেন প্রত্যেক গ্রামবাসীকে প্রমাণ করিতে হইবে সে চোর নহে, দ্রোহী নহে।

গ্রামের অনেকেই ভয় পাইল। আবার অনেকেই ভাবিল রাজা ঈশ্বরের দূত, তিনি স্থির করিয়াছেন যখন তখন মঙ্গলের জন্যেই হইবে। ঈশ্বর যেমন সৎ মানুষকেও পীড়া দিয়া পরীক্ষা করেন, ইনিও তাহাই করিতেছেন।

সে গ্রামে এক বৃদ্ধ দম্পতি বাস করিত। তাহারা কহিল স্বদেশেই প্রমাণ করিতে হইবে আমরা স্বদেশী? দেশ দুষ্ট মানুষ রহিত নহে, ইহা বাস্তব। কিন্তু তাই বলিয়া এ যে ঠগ বাছিতে গাঁ উজাড় প্রবাদের বাস্তব রূপ।

একজন কহিল, কিন্তু প্রমাণ যদি করিতে পারো তবে আর ভাবনা কী?

বৃদ্ধ কহিল, স্বদেশ পরিচয় দিবার স্থান, প্রমাণ দিবার নহে। ইহাই বিঁধিতেছে। পরিচয় স্বদেশীর কাছে দিতে হয়, প্রমাণ যাহারা চায় বিদেশী।

প্রশ্নকর্তা কহিল, প্রমাণ চাহিবার অধিকার যাহার আছে সে সহস্রবার চাহিবে।

বৃদ্ধা কহিল, অধিকার থাকিলেই অধিকারী হওয়া যায় না, যদি না বিবেচনা রহে। কৃষক প্রতিদিন যদি ধানগাছের কাছে ধানগাছের প্রমাণ চায়, যে অধিকার তাহার আছে, বুঝিতে হইবে তাহার অধীত বিদ্যায় দুর্বলতা রহিয়াছে। তবে দেশ না খাইয়া মরে। বিবেচনা নির্ভর করে আমার ইচ্ছার উপর নহে, ন্যায়ের শক্তির উপর। তাই উহা আমাকে বাঁচায়। ইহা ভুলিলে মূলেই ভুল হইল।